বিএনপির পররাষ্ট্রনীতি হবে ভারসাম্যপূর্ণ ও বহুপাক্ষিক

  বিশেষ প্রতিনিধি    01-07-2025    84
বিএনপির পররাষ্ট্রনীতি হবে ভারসাম্যপূর্ণ ও বহুপাক্ষিক

ক্ষমতায় গেলে জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দেশের পররাষ্ট্রনীতি ও কূটনীতিতে ভারসাম্যপূর্ণ নতুন ধারা চালু করতে চায় বিএনপি। দলটির নেতারা বলছেন, কোনো দেশের ওপর একক নির্ভরশীলতা থাকলে দেশের স্বার্থ রক্ষা করা সম্ভব হয় না। তাই আগামীতে বিএনপির কূটনীতির মূল ভিত্তি হবে একক নির্ভরশীলতা থেকে বেরিয়ে বহুপাক্ষিক সম্পর্ক গড়া। দলটির নেতারা বলছেন, বিএনপির আগামী দিনের কূটনীতি কেমন হবে তা দলের রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফায় স্পষ্টভাবে বলা আছে। সেখানে বলা আছে বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হবে। সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থের স্বীকৃতি এবং আন্তর্জাতিক বিধি-বিধান অনুযায়ী দ্বি-পাক্ষিক ও বহু-পাক্ষিক সমস্যার সমাধান করা হবে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ‘একপেশে’ কূটনৈতিক অবস্থান থেকে বেরিয়ে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের পররাষ্ট্র নীতি ‘দেশ ও জনগণের স্বার্থ রক্ষা করে সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব’—এই নীতিতে ফিরে যাওয়া হবে।

বিএনপি চেয়ারপার্সনের ফরেন অ্যাফেয়ার্স অ্যাডভাইজরি কমিটির সদস্য ও স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘আমাদের মাল্টিলেটারাল রিলেশনশিপ। আমরা কখনও একক দেশকেন্দ্রিক নীতি গ্রহণ করি না। বিএনপি যতবারই ক্ষমতায় ছিল, কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিল বহুপাক্ষিক। সবার সঙ্গে সম্পর্ক, কোনো এক দেশকেন্দ্রিক নীতি নয়—এটা খুবই পরিষ্কার।’

বিএনপি নেতারা বলছেন, আগামীতে ক্ষমতায় গেলে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা- সার্ককে আবারো পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নেবে বিএনপি। সার্কভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের উন্নয়নে জোর দেওয়া হবে। যাতে নিজেদের মধ্যকার আন্তঃসংযোগকে কাজে লাগিয়ে বাণিজ্য সম্প্রসারণ করা যায়। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাণিজ্য, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারকে বিবেচনায় নিয়ে নীতি প্রণয়ন করা হবে।

দলটির নেতারা আরো বলছেন, সৌদি আরব, কাতার, দুবাইসহ মধ্যপ্রাচ্যের ১৬টি দেশ বাংলাদেশের অন্যমত শ্রমবাজার। জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার শাসনামলে মধ্যপ্রাচ্যকে আলাদা গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। মাঝখানে বিএনপির কূটনীতিতে মধ্যপ্রাচ্য কিছুটা উপেক্ষিত ছিল। এখন সেখান থেকে বেরিয়ে আসা হচ্ছে। এখন এসব দেশের সঙ্গে বিশেষ সম্পর্ক গড়ে তুলতে নজর দিচ্ছে দল। যাতে এসব দেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাণিজ্য, বিনিয়োগের পাশাপাশি শ্রমবাজার সম্প্রসারণে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া যায়।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘বিদেশে আমাদের বন্ধু থাকবে, প্রভু থাকবে না। জিয়াউর রহমান সার্ক গঠন করেছিলেন। আমাদের পার্শ্ববর্তী ৭টি দেশ মিলে এটা একটা অ্যাসোসিয়েশন। যেকোনো সমস্যার আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সুন্দর সমাধান হয়ে যায়। কিন্তু বিগত আওয়ামী লীগ সরকার সার্ককে পুরোপুরি অকার্যকর করেছে। তারা একটা দেশকে প্রাধান্য দিয়েছে। আশা করছি, ভবিষ্যতে সার্ক কার্যকরভাবে সক্রিয় হবে।’

সারাদেশ-এর আরও খবর