রাজবাড়ী সদর উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের মাটিপাড়া গ্রামে ৮ম শ্রেণি পড়ুয়া এক ছাত্রীর বিয়ের অনুষ্ঠান বন্ধ করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এসময় কনের বাবাকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া ওই ছাত্রীর বয়স ১৮ বছর না হওয়া পর্যন্ত মেয়েকে তুলে দেওয়া যাবে না মর্মে মুচলেকা নেওয়া হয়। ওই স্কুলছাত্রীর বয়স নোটারি পাবলিক করে বাড়িয়ে বিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং কনে উঠিয়ে দেওয়ার আনুষ্ঠানিকতা চলছিল।
শুক্রবার (২২ আগস্ট) দুপুরে রাজবাড়ী সদর উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের মাটিপাড়ার বেথুলিয়া গ্রামের নিজাম সরদারের মেয়ে নীলা আক্তারকে আনুষ্ঠানিকভাবে উঠিয়ে নিতে বরপক্ষের আসার কথা ছিল। এ সময় সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার নির্দেশে কিশোর-কিশোরী ক্লাবের জেন্ডার প্রোমটার গোলাম রব্বানী ও গ্রাম পুলিশ, স্থানীয় চেয়ারম্যান, মেম্বারসহ মেয়ের বাড়িতে উপস্থিত হয়ে বিয়ের অনুষ্ঠান পণ্ড করে দেয়।
এ সময় মেয়ের বাবার কাছ থেকে মুচলেক নেওয়া হয় যে তারা তাদের মেয়েকে প্রকৃত ১৮ বছর না হওয়া পর্যন্ত বরের বাড়ি তুলে দেবেন না এবং মেয়ের পড়ালেখা চালিয়ে যাবেন। কিন্তু তারা কথা দিলেও ঘটনাস্থল থেকে চলে আসার পর আবার বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা করার চেষ্টা করেন। পরে সেটি জানতে পেরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পায়রা চৌধুরী পুলিশ ফোর্সসহ উপস্থিত হয়ে মেয়ের বাবাকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করেন এবং তারা এতে সাবধান না হলে পরবর্তীতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে পরিবারের সবাইকে জানানো হয়। পরবর্তীতে বরযাত্রীরা কনের বাড়িতে আসেনি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সদর উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের মাটিপাড়ার বেথুলিয়া গ্রামের নিজাম সরদারের মেয়ে নীলা আক্তার। সে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে ৮ম শ্রেণিতে পড়ে। তার প্রকৃত বয়স ১৩ বছর। পারিবারিকভাবে তার বিয়ে ঠিক হয় একই ইউনিয়নের মাটিপাড়া গ্রামের মো. ছোবান মোল্লার ছেলে সোহান মোল্লার সঙ্গে। জন্মসনদ অনুযায়ী নীলার প্রকৃত বয়স ১৩ বছর। কিন্তু বর ও কনের উভয়ের পরিবার গত ১৮ আগস্ট রাজবাড়ী কোর্টে আইনজীবীর মাধ্যমে ১০০ টাকার স্ট্যাম্পে নোটারি পাবলিক করে নীলার বয়স ১৮ বছর বানিয়ে কোর্টে বিয়ে দেওয়া হয়। সেই হলফনামায় স্বাক্ষর রয়েছে জেলা বারের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শফিউর রেজা তপন ও নোটারি পাবলিক অ্যাডভোকেট এ টি মোস্তফার।
রাজবাড়ী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারিয়া হক বলেন, আমরা নিয়মিত বাল্যবিবাহ সম্পর্কে অভিভাবকদের ও ছেলে-মেয়েদের সচেতন করছি।কিন্তু তারপরও ছেলে-মেয়ের অভিভাবকেরা কোর্টে আইনজীবীর মাধ্যমে নোটারি পাবলিক করে বয়স বাড়িয়ে বিয়ের আয়োজন করে, যার আইনগতভাবে কোনো বৈধতা নেই। তারপরও আমরা চেষ্টা করছি বাল্যবিবাহ যাতে না হয়। এজন্য আমরা খবর পেলেই অভিযান চালিয়ে বাল্যবিবাহ পণ্ড করে দেই।
এ বিষয়ে সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি জ্যোতি শঙ্কর ঝুন্টু বলেন, বাল্যবিবাহ শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতি করে না, পারিবারিক, সামাজিক এবং সর্বোপরি রাষ্ট্রের ক্ষতিসাধনেও সহায়ক হয়। যেমন শিক্ষার আলো এবং স্বাস্থ্যগত কারণে অল্প বয়সের মেয়েটি তার নিজের সম্পর্কে সচেতন নয়। সুতরাং পরিবার সম্পর্কে তার ধারণা না থাকা স্বাভাবিক বিষয়। বাল্যবিবাহের ফলে বিবাহ বিচ্ছেদে বেশি তৈরি হওয়া ছাড়াও নানা পারিবারিক অশান্তি দেখা দেয়। অপ্রাপ্তবয়স্ক মা প্রতিবন্ধী শিশু জন্মদান করতে পারে। সুতরাং সমাজ থেকে বাল্যবিবাহ বন্ধ হওয়া উচিত।
নোটারি করে বয়স বাড়িয়ে ৮ম শ্রেণির ছাত্রীর বিয়ে, কনের বাবাকে জরিমানা
রাজবাড়ী সদর উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের মাটিপাড়া গ্রামে ৮ম শ্রেণি পড়ুয়া এক ছাত্রীর বিয়ের অনুষ্ঠান বন্ধ করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এসময় কনের বাবাকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া ওই ছাত্রীর বয়স ১৮ বছর না হওয়া পর্যন্ত মেয়েকে তুলে দেওয়া যাবে না মর্মে মুচলেকা নেওয়া হয়। ওই স্কুলছাত্রীর বয়স নোটারি পাবলিক করে বাড়িয়ে বিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং কনে উঠিয়ে দেওয়ার আনুষ্ঠানিকতা চলছিল।
শুক্রবার (২২ আগস্ট) দুপুরে রাজবাড়ী সদর উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের মাটিপাড়ার বেথুলিয়া গ্রামের নিজাম সরদারের মেয়ে নীলা আক্তারকে আনুষ্ঠানিকভাবে উঠিয়ে নিতে বরপক্ষের আসার কথা ছিল। এ সময় সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার নির্দেশে কিশোর-কিশোরী ক্লাবের জেন্ডার প্রোমটার গোলাম রব্বানী ও গ্রাম পুলিশ, স্থানীয় চেয়ারম্যান, মেম্বারসহ মেয়ের বাড়িতে উপস্থিত হয়ে বিয়ের অনুষ্ঠান পণ্ড করে দেয়।
এ সময় মেয়ের বাবার কাছ থেকে মুচলেক নেওয়া হয় যে তারা তাদের মেয়েকে প্রকৃত ১৮ বছর না হওয়া পর্যন্ত বরের বাড়ি তুলে দেবেন না এবং মেয়ের পড়ালেখা চালিয়ে যাবেন। কিন্তু তারা কথা দিলেও ঘটনাস্থল থেকে চলে আসার পর আবার বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা করার চেষ্টা করেন। পরে সেটি জানতে পেরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পায়রা চৌধুরী পুলিশ ফোর্সসহ উপস্থিত হয়ে মেয়ের বাবাকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করেন এবং তারা এতে সাবধান না হলে পরবর্তীতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে পরিবারের সবাইকে জানানো হয়। পরবর্তীতে বরযাত্রীরা কনের বাড়িতে আসেনি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সদর উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের মাটিপাড়ার বেথুলিয়া গ্রামের নিজাম সরদারের মেয়ে নীলা আক্তার। সে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে ৮ম শ্রেণিতে পড়ে। তার প্রকৃত বয়স ১৩ বছর। পারিবারিকভাবে তার বিয়ে ঠিক হয় একই ইউনিয়নের মাটিপাড়া গ্রামের মো. ছোবান মোল্লার ছেলে সোহান মোল্লার সঙ্গে। জন্মসনদ অনুযায়ী নীলার প্রকৃত বয়স ১৩ বছর। কিন্তু বর ও কনের উভয়ের পরিবার গত ১৮ আগস্ট রাজবাড়ী কোর্টে আইনজীবীর মাধ্যমে ১০০ টাকার স্ট্যাম্পে নোটারি পাবলিক করে নীলার বয়স ১৮ বছর বানিয়ে কোর্টে বিয়ে দেওয়া হয়। সেই হলফনামায় স্বাক্ষর রয়েছে জেলা বারের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শফিউর রেজা তপন ও নোটারি পাবলিক অ্যাডভোকেট এ টি মোস্তফার।
রাজবাড়ী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারিয়া হক বলেন, আমরা নিয়মিত বাল্যবিবাহ সম্পর্কে অভিভাবকদের ও ছেলে-মেয়েদের সচেতন করছি।কিন্তু তারপরও ছেলে-মেয়ের অভিভাবকেরা কোর্টে আইনজীবীর মাধ্যমে নোটারি পাবলিক করে বয়স বাড়িয়ে বিয়ের আয়োজন করে, যার আইনগতভাবে কোনো বৈধতা নেই। তারপরও আমরা চেষ্টা করছি বাল্যবিবাহ যাতে না হয়। এজন্য আমরা খবর পেলেই অভিযান চালিয়ে বাল্যবিবাহ পণ্ড করে দেই।
এ বিষয়ে সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি জ্যোতি শঙ্কর ঝুন্টু বলেন, বাল্যবিবাহ শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতি করে না, পারিবারিক, সামাজিক এবং সর্বোপরি রাষ্ট্রের ক্ষতিসাধনেও সহায়ক হয়। যেমন শিক্ষার আলো এবং স্বাস্থ্যগত কারণে অল্প বয়সের মেয়েটি তার নিজের সম্পর্কে সচেতন নয়। সুতরাং পরিবার সম্পর্কে তার ধারণা না থাকা স্বাভাবিক বিষয়। বাল্যবিবাহের ফলে বিবাহ বিচ্ছেদে বেশি তৈরি হওয়া ছাড়াও নানা পারিবারিক অশান্তি দেখা দেয়। অপ্রাপ্তবয়স্ক মা প্রতিবন্ধী শিশু জন্মদান করতে পারে। সুতরাং সমাজ থেকে বাল্যবিবাহ বন্ধ হওয়া উচিত।
সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ জাহিদ হোসেন
নির্বাহী সম্পাদক
আলহাজ্ব শেখ সিদ্দিকুর রহমান
বার্তা সম্পাদক
তাকছিমুন নাহার
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
ইঞ্জিনিয়ার কে এম মেহেদী হাসান
|
মোবাইল: ০১৭১১২৪৯৭৭০
হোয়াটস্অ্যাপ: ০১৭১১২৪৯৭৭০
প্রধান কার্যালয় মোহাম্মদপুর, ঢাকা।
Email: deshpatrika24@gmail.com |
প্রিন্টের তারিখ ও সময়: February 25, 2026, 4:37 pm