সাতক্ষীরা, ২১ সেপ্টেম্বর : দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে শুরু হয়েছে সাতক্ষীরা থেকে ভেটখালি পর্যন্ত সড়ক সংস্কার ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের কাজ। বহু বছর ধরে চলাচলের অনুপযোগী এ সড়কটির কারণে সুন্দরবনগামী পর্যটন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছিল। অথচ দেশের একমাত্র স্থলপথে সুন্দরবনে প্রবেশের সুযোগ রয়েছে সাতক্ষীরা দিয়েই।
শনিবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেল চারটায় জেলা নাগরিক কমিটির এক প্রতিনিধি দল সাতক্ষীরা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আনোয়ার পারভেজের সাথে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তাঁরা প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার আহ্বান জানান। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন জেলা নাগরিক কমিটির আহবায়ক অ্যাড. শেখ আজাদ হোসেন বেলাল। এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অধ্যক্ষ আশেক ই এলাহী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হেনরী সরদার, উদীচী সাতক্ষীরার সভাপতি শেখ সিদ্দিকুর রহমান, যুগ্ম সদস্য সচিব আলি নুর খান বাবুল এবং অধ্যাপক পবিত্র মোহন দাশ প্রমূখ। আলোচনায় সড়ক ও জনপথ বিভাগের এসও রাফিউজ্জামানও অংশ নেন।
প্রকল্পের কাঠামো
মোট ৬২.৩২৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই সড়ককে ছয় ভাগে ভাগ করে কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে—
১. লাবনী মোড় থেকে আলিপুর চেকপোস্ট
২. আলিপুর চেকপোস্ট থেকে পারুলিয়া গরুর হাট
৩. পারুলিয়া থেকে নলতা হাদীপুর
৪. হাদীপুর থেকে কালিগঞ্জ ফুলতলা
৫. কালিগঞ্জ ফুলতলা থেকে শ্যামনগর সরকারি মহসিন কলেজ
৬. মহসিন কলেজ থেকে ভেটখালি
প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ৫৮২ কোটি টাকা (ঠিকাদারের লেস কমিশন বাদে)। তিনটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি বাস্তবায়ন করছে—মইনউদ্দীন বাঁশি লিমিটেড (দুই ভাগ), বাবু পাটোয়ারী, যশোর (মইনউদ্দীনের অংশীদার হিসেবে দুই ভাগ), এবং জহুরুল লিমিটেড, মেহেরপুর (দুই ভাগ)।
অগ্রগতি ও চ্যালেঞ্জ
ইতোমধ্যে সড়কের দুই পাশে জলাশয় ভরাট এবং কয়েকটি কালভার্ট নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। তবে টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে কাজের গতি কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আনোয়ার পারভেজ।
কার্যাদেশ অনুযায়ী ২০২৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার কথা। যদিও পাঁচ বছরের মেয়াদি এই প্রকল্পের তিন বছর ইতোমধ্যেই অতিক্রান্ত হয়েছে। স্থানীয় মানুষ ও নাগরিক সমাজের প্রত্যাশা—এবার যেন আর কোনো দীর্ঘসূত্রিতা না হয়।
সম্ভাবনার দ্বারপ্রান্তে সাতক্ষীরা
স্থানীয় নাগরিক সমাজের প্রত্যাশা—এই প্রকল্প আর কোনোভাবেই দীর্ঘসূত্রিতার শিকার হবে না। কারণ, এই সড়ক শুধু সাতক্ষীরা জেলার ভেতরকার যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করবে না; বরং সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটন, স্থানীয় অর্থনীতি ও পরিবেশবান্ধব উন্নয়নেও নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন, “এই রাস্তা ঠিক হলে সাতক্ষীরার চেহারা পাল্টে যাবে। পর্যটক বাড়বে, ব্যবসা-বাণিজ্য জমে উঠবে, আমাদের জীবিকারও উন্নতি হবে।”
অতএব, সাতক্ষীরা–ভেটখালি সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প শুধু একটি অবকাঠামো নয়, বরং জেলার ভবিষ্যৎ উন্নয়নের অন্যতম চাবিকাঠি হয়ে উঠতে যাচ্ছে।
সাতক্ষীরা–ভেটখালি সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শুরু
সাতক্ষীরা, ২১ সেপ্টেম্বর : দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে শুরু হয়েছে সাতক্ষীরা থেকে ভেটখালি পর্যন্ত সড়ক সংস্কার ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের কাজ। বহু বছর ধরে চলাচলের অনুপযোগী এ সড়কটির কারণে সুন্দরবনগামী পর্যটন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছিল। অথচ দেশের একমাত্র স্থলপথে সুন্দরবনে প্রবেশের সুযোগ রয়েছে সাতক্ষীরা দিয়েই।
শনিবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেল চারটায় জেলা নাগরিক কমিটির এক প্রতিনিধি দল সাতক্ষীরা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আনোয়ার পারভেজের সাথে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তাঁরা প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার আহ্বান জানান। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন জেলা নাগরিক কমিটির আহবায়ক অ্যাড. শেখ আজাদ হোসেন বেলাল। এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অধ্যক্ষ আশেক ই এলাহী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হেনরী সরদার, উদীচী সাতক্ষীরার সভাপতি শেখ সিদ্দিকুর রহমান, যুগ্ম সদস্য সচিব আলি নুর খান বাবুল এবং অধ্যাপক পবিত্র মোহন দাশ প্রমূখ। আলোচনায় সড়ক ও জনপথ বিভাগের এসও রাফিউজ্জামানও অংশ নেন।
প্রকল্পের কাঠামো
মোট ৬২.৩২৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই সড়ককে ছয় ভাগে ভাগ করে কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে—
১. লাবনী মোড় থেকে আলিপুর চেকপোস্ট
২. আলিপুর চেকপোস্ট থেকে পারুলিয়া গরুর হাট
৩. পারুলিয়া থেকে নলতা হাদীপুর
৪. হাদীপুর থেকে কালিগঞ্জ ফুলতলা
৫. কালিগঞ্জ ফুলতলা থেকে শ্যামনগর সরকারি মহসিন কলেজ
৬. মহসিন কলেজ থেকে ভেটখালি
প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ৫৮২ কোটি টাকা (ঠিকাদারের লেস কমিশন বাদে)। তিনটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি বাস্তবায়ন করছে—মইনউদ্দীন বাঁশি লিমিটেড (দুই ভাগ), বাবু পাটোয়ারী, যশোর (মইনউদ্দীনের অংশীদার হিসেবে দুই ভাগ), এবং জহুরুল লিমিটেড, মেহেরপুর (দুই ভাগ)।
অগ্রগতি ও চ্যালেঞ্জ
ইতোমধ্যে সড়কের দুই পাশে জলাশয় ভরাট এবং কয়েকটি কালভার্ট নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। তবে টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে কাজের গতি কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আনোয়ার পারভেজ।
কার্যাদেশ অনুযায়ী ২০২৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার কথা। যদিও পাঁচ বছরের মেয়াদি এই প্রকল্পের তিন বছর ইতোমধ্যেই অতিক্রান্ত হয়েছে। স্থানীয় মানুষ ও নাগরিক সমাজের প্রত্যাশা—এবার যেন আর কোনো দীর্ঘসূত্রিতা না হয়।
সম্ভাবনার দ্বারপ্রান্তে সাতক্ষীরা
স্থানীয় নাগরিক সমাজের প্রত্যাশা—এই প্রকল্প আর কোনোভাবেই দীর্ঘসূত্রিতার শিকার হবে না। কারণ, এই সড়ক শুধু সাতক্ষীরা জেলার ভেতরকার যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করবে না; বরং সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটন, স্থানীয় অর্থনীতি ও পরিবেশবান্ধব উন্নয়নেও নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন, “এই রাস্তা ঠিক হলে সাতক্ষীরার চেহারা পাল্টে যাবে। পর্যটক বাড়বে, ব্যবসা-বাণিজ্য জমে উঠবে, আমাদের জীবিকারও উন্নতি হবে।”
অতএব, সাতক্ষীরা–ভেটখালি সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প শুধু একটি অবকাঠামো নয়, বরং জেলার ভবিষ্যৎ উন্নয়নের অন্যতম চাবিকাঠি হয়ে উঠতে যাচ্ছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ জাহিদ হোসেন
নির্বাহী সম্পাদক
আলহাজ্ব শেখ সিদ্দিকুর রহমান
বার্তা সম্পাদক
তাকছিমুন নাহার
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
ইঞ্জিনিয়ার কে এম মেহেদী হাসান
|
মোবাইল: ০১৭১১২৪৯৭৭০
হোয়াটস্অ্যাপ: ০১৭১১২৪৯৭৭০
প্রধান কার্যালয় মোহাম্মদপুর, ঢাকা।
Email: deshpatrika24@gmail.com |
প্রিন্টের তারিখ ও সময়: February 25, 2026, 4:34 pm