গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’র ভবিষ্যৎ কী, কোন দল কী চায়

  বিশেষ প্রতিনিধি    03-02-2026    37
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’র ভবিষ্যৎ কী, কোন দল কী চায়

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক সন্ধিক্ষণ হয়ে দাঁড়িয়েছে আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং এর সঙ্গে যুক্ত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ নিয়ে গণভোট। এই গণভোট কেবল একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নয়, বরং দেশের আগামীর রাষ্ট্রকাঠামো ও আমূল সংস্কারের রূপরেখা নির্ধারণের এক চূড়ান্ত পরীক্ষা।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ভোটের ফলাফলের ওপরই নির্ভর করছে সংস্কারের দাবিগুলো আইনি বাধ্যবাধকতা পাবে নাকি রাজনৈতিক সদিচ্ছার গোলকধাঁধায় হারিয়ে যাবে।গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ার অর্থ হলো জুলাই সনদের প্রস্তাবিত সংস্কারগুলোতে জনগণের সরাসরি ম্যান্ডেট বা চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ, যা রাজনৈতিক দলগুলোকে সেই সংস্কার বাস্তবায়নে বাধ্য করবে। অন্যদিকে, ‘না’ ভোটের জয় সংস্কার প্রক্রিয়াকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিতে পারে, যেখানে পরিবর্তনের প্রতিটি পদক্ষেপ কেবল রাজনৈতিক দরকষাকষির বিষয়ে পরিণত হবে। তাই এই গণভোটকে দেখা হচ্ছে নতুন বাংলাদেশের ভাগ্য নির্ধারণী এক ঐতিহাসিক ম্যান্ডেট হিসেবে। ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে বন্ধ হবে ফ্যাসিবাদের পথ : আলী রীয়াজ

জুলাই সনদের পক্ষে এবং ‘হ্যাঁ’ ভোটের সমর্থনে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন অধ্যাপক আলী রীয়াজ। তিনি জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রধান ছিলেন এবং বর্তমানে উপদেষ্টা পদমর্যাদায় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারীর দায়িত্ব পালন করছেন।

অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, সংস্কার প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থায় কাঠামোগত পরিবর্তন আসবে। এর ফলে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার পথ প্রশস্ত হবে এবং ক্ষমতার এককেন্দ্রীকরণের পথে বড় প্রতিবন্ধকতা তৈরি হবে।

তিনি উল্লেখ করেন, জুলাই সনদের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও নির্বাচন কমিশন গঠনে সরকার ও বিরোধী দল একযোগে কাজ করবে। ফলে ক্ষমতাসীনরা চাইলেই নিজের ইচ্ছেমতো সংবিধান পরিবর্তন করতে পারবে না; যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে জনগণের সরাসরি সম্মতি নিতে হবে।

সারাদেশ-এর আরও খবর