সহিংসতামুক্ত নির্বাচন : পুলিশের সক্ষমতা ও মানসিকতা নিয়ে প্রশ্ন

  বিশেষ প্রতিনিধি    10-02-2026    38
সহিংসতামুক্ত নির্বাচন : পুলিশের সক্ষমতা ও মানসিকতা নিয়ে প্রশ্ন

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে এক নজিরবিহীন নিরাপত্তার চাদর বিছিয়ে দিয়েছে সরকার। আট লাখের বিশাল নিরাপত্তা বাহিনী, আকাশছোঁয়া প্রস্তুতি আর আধুনিক ‘সুরক্ষা অ্যাপ’— সবমিলিয়ে এক নিশ্ছিদ্র বলয়ের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু গাণিতিক এই প্রস্তুতির আড়ালে লুকিয়ে আছে এক উদ্বেগজনক বাস্তবতা। একদিকে মাঠপর্যায়ে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের বিস্তার, অন্যদিকে লুণ্ঠিত অস্ত্রের রহস্যময় নিখোঁজ থাকা জনমনে বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে।

পুলিশের দাবি তারা ‘ফুল স্ট্রেংথ’ অর্থাৎ পূর্ণ শক্তিতে প্রস্তুত, কিন্তু সাম্প্রতিক মব ভায়োলেন্স মোকাবিলায় বাহিনীর ‘নির্বিকার’ ভূমিকা সেই সক্ষমতাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, ৫ আগস্ট-পরবর্তী মনস্তাত্ত্বিক ট্রমা কাটিয়ে পুলিশ কতটা কার্যকর হবে, তার ওপরই নির্ভর করছে ভোটের দিনের ভাগ্য। এমন এক জটিল সমীকরণের সামনে দাঁড়িয়ে খোদ পুলিশপ্রধানের বয়ানে ফুটে উঠছে এক রূঢ় সত্য— সহিংসতা কি তবে আমাদের নির্বাচনের অমোঘ নিয়তি?

মব নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ‘অসহায়ত্ব’ গত বছরের ১৮ ডিসেম্বরের রাত দেশের সংবাদমাধ্যম ইতিহাসের এক ভয়াবহ অধ্যায়। ইনকিলাব মঞ্চের শরীফ ওসমান হাদীর মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়লে রাজধানীতে উত্তেজনা দেখা দেয়। এর জেরে শ-দুয়েক মানুষের একটি মব প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার অফিসে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে।

জীবন বাঁচাতে সাংবাদিকরা ছাদে আশ্রয় নিলেও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ঘটনাস্থলে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত থাকলেও তারা ছিল নির্বিকার। হামলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করা বা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের এই ‘অসহায়ত্ব’ বা রহস্যময় নীরবতা মবকে আরও বেপরোয়া করে তোলে। ওই ঘটনাটি আসন্ন নির্বাচনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সংশয় তৈরি করেছে। ওই ঘটনার রেশ না কাটতেই ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতার পরিসংখ্যান জনমনে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। সংস্থাটির তথ্যমতে, তফসিল ঘোষণার পরবর্তী ৩৬ দিনে সারাদেশে অন্তত ১৫ জন রাজনৈতিক কর্মী নিহত হয়েছেন। ২০২৫ সালে ৪০১টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১০২ জন। থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্রের মধ্যে এখনও ১,৩৩৩টি অস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই লুণ্ঠিত অস্ত্র এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নতুন করে অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়ার উদ্যোগ নির্বাচনের ঝুঁকি কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

সারাদেশ-এর আরও খবর