বাজফিডে ত্রুটির ফলে গ্রিড বিপর্যয়, আধুনিকায়ন হয়নি সঞ্চালন ব্যবস্থা

  বিশেষ প্রতিনিধি    26-06-2025    135
বাজফিডে ত্রুটির ফলে গ্রিড বিপর্যয়, আধুনিকায়ন হয়নি সঞ্চালন ব্যবস্থা

গত রোববার রাতে হঠাৎ করে ঘটা বিদ্যুৎ বিভ্রাটে অন্ধকারে নিমজ্জিত হয় ঢাকার বড় একটি অংশ। রামপুরা সুপার গ্রিড সাবস্টেশনের বাজফিডে কারিগরি ত্রুটির ফলে এ বিভ্রাট ঘটে। এতে গুলশান, বনানী, তেজগাঁও, ফার্মগেটসহ রাজধানীর বেশ কয়েকটি এলাকায় একযোগে এক ঘণ্টার বেশি সময় লোডশেডিং হয়।

পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিবিপি) জানিয়েছে, রামপুরা গ্রিডের ২৩০ কেভি সাবস্টেশনে রোববার (২২ জুন) রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয়। পরে রাত ১১টা ৪৫ মিনিটে মেরামত শেষে ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়।

গ্রিডে হঠাৎ এমন বিপর্যয় দেশের বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থার প্রযুক্তিগত ও পরিকল্পনাগত দুর্বলতার চিত্র সামনে এনেছে। সঞ্চালন ব্যবস্থায় আধুনিকায়নের অভাব এবং পর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থার ঘাটতি গ্রিড ট্রিপিংয়ের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

‘বাজফিড’ কীভাবে ঘটে?

পিজিবিপির প্রধান প্রকৌশলী বি. এম. মিজানুল হাসান ঢাকা পোস্টকে বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ওই সময় গ্রিডে ‘বাজফিড’ হয়েছে, যা মূলত বিদ্যুৎ ফ্রিকোয়েন্সি বা ভোল্টেজের অনিয়মিত ওঠানামার ফলে হয়। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম হলে গ্রিডে চাপ পড়ে। এতে ফ্রিকোয়েন্সি অস্বাভাবিকভাবে কমে যায়, ফলে নিরাপত্তাজনিত কারণে সাবস্টেশন নিজে থেকেই বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এটিই হলো বাজফিড।

তিনি বলেন, রামপুরা সাবস্টেশনে এই ত্রুটি কীভাবে ঘটল, তা জানতে তদন্ত চলছে। তবে ঘটনা দ্রুত সমাধান করতে পেরেছে পিজিবিপি, এটা ইতিবাচক। উন্নত বিশ্বে বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থা আধুনিক ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালিত হয়, যা লোড ব্যালান্স করতে সক্ষম। কিন্তু বাংলাদেশের জাতীয় গ্রিড এখনও অনেকাংশে ম্যানুয়ালি পরিচালিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সঞ্চালন ব্যবস্থায় আধুনিকায়নের অভাব এবং পর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থার ঘাটতি গ্রিড ট্রিপিংয়ের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ইজাজ হোসেন বলেন, ঘটনার দিন আবহাওয়া স্বাভাবিক ছিল, ঝড়-বৃষ্টি হয়নি। সুতরাং আবহাওাজনিত কোনো কারণে গ্রিড ট্রিপ হওয়ার কথা নয়। সম্ভবত অতিরিক্ত লোডের কারণে ট্রিপিং হয়েছে।

তিনি বলেন, গ্রীষ্মকালে বিদ্যুতের চাহিদা অনেক বেশি থাকে। ফলে ওভারলোডের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। সাধারণত সাবস্টেশনগুলো ১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতা থাকলে অনেক সময় তার সমান বা বেশি লোড নেয়। তাৎক্ষণিকভাবে তা সমস্যা না করলেও, দীর্ঘ সময় ধরে এই অতিরিক্ত লোড নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী নিয়ম হচ্ছে নির্ধারিত লোডের চাইতে কিছুটা কম লোড নেওয়া।

উন্নত বিশ্বে বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থা আধুনিক ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালিত হয়, যা লোড ব্যালান্স করতে সক্ষম। কিন্তু বাংলাদেশের জাতীয় গ্রিড এখনও অনেকাংশে ম্যানুয়ালি পরিচালিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সঞ্চালন ব্যবস্থায় আধুনিকায়নের অভাব এবং পর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থার ঘাটতি গ্রিড ট্রিপিংয়ের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ইজাজ হোসেন বলেন, ঘটনার দিন আবহাওয়া স্বাভাবিক ছিল, ঝড়-বৃষ্টি হয়নি। সুতরাং আবহাওাজনিত কোনো কারণে গ্রিড ট্রিপ হওয়ার কথা নয়। সম্ভবত অতিরিক্ত লোডের কারণে ট্রিপিং হয়েছে।

তিনি বলেন, গ্রীষ্মকালে বিদ্যুতের চাহিদা অনেক বেশি থাকে। ফলে ওভারলোডের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। সাধারণত সাবস্টেশনগুলো ১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতা থাকলে অনেক সময় তার সমান বা বেশি লোড নেয়। তাৎক্ষণিকভাবে তা সমস্যা না করলেও, দীর্ঘ সময় ধরে এই অতিরিক্ত লোড নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী নিয়ম হচ্ছে নির্ধারিত লোডের চাইতে কিছুটা কম লোড নেওয়া।

জাতীয়-এর আরও খবর