২০২৪ সালের ১৮ জুলাই। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামার সময় হঠাৎ থেমে যায় দেশের ডিজিটাল স্পন্দন ‘ইন্টারনেট’। প্রথম ধাপে বন্ধ হয় মোবাইল ইন্টারনেট, পরে ব্রডব্যান্ড। ধীরে ধীরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নেমে আসে ঘোর অন্ধকার। মানুষ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে আপন জগৎ থেকে। প্রযুক্তির শক্তি যেন হঠাৎ করেই নিষ্প্রভ হয়ে যায়। কে করল, কেন করল, কীভাবে হলো? এমন অসংখ্য প্রশ্নে মানুষ উদ্বিগ্ন হলেও তাৎক্ষণিকভাবে মেলেনি কোনো সদুত্তর।
সময় ঘুরে আবারও এলো ১৮ জুলাই (২০২৫ সাল)। ঘটনাবহুল দিনটির এক বছর পূর্তি আজ। এই এক বছরে অনেক কিছু বদলেছে, সরকার বদলেছে, প্রতিমন্ত্রী বদলেছেন কিন্তু বদলায়নি মানুষের মনে থাকা সেই ক্ষোভ আর প্রশ্ন। যার উত্তরও মিলেছে তদন্তে। তৎকালীন তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক নিজেই স্বীকার করেছেন যে, সেদিনের ইন্টারনেটের অনুপস্থিতি নিছক প্রযুক্তিগত কোনো বিষয় ছিল না। উল্টো এমন কাণ্ড ঘটানো হয়েছিল রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনায়।
দীর্ঘ এক বছর পর ফিরে দেখা যাক, কেমন ছিল সেই কালরাত্রি ও তার পরের ঘটনাপ্রবাহ।
যেভাবে বন্ধ হয় ইন্টারনেটের দুয়ার
কোটা সংস্কার আন্দোলন ইস্যুতে ২০২৪ সালের ১৭ জুলাই থেকে মোবাইল ইন্টারনেট কিছুটা ধীর হয়ে আসে। পরের দিন অর্থাৎ ১৮ জুলাই বিকেল থেকে রাত ৯টার মধ্যে দেশজুড়ে বন্ধ করে দেওয়া হয় মোবাইল ও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট। অজুহাত দেওয়া হয়, ঢাকার তেজগাঁও, মহাখালী ও বনানী অঞ্চলে আগুন দেওয়ার কারণে ডেটা সেন্টার পুড়ে গেছে, তাই বন্ধ হয়েছে নেট।
সাবেক ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক ওই সময় বলেন, ‘সরকার ইন্টারনেট বন্ধ করেনি, বন্ধ হয়ে গেছে’। তার এই বক্তব্যই যেন রসিকতা ও বাস্তবতার দোলাচল। অথচ এর আগেই দেশের আইআইজি, আইএসপি ও মোবাইল অপারেটরদের কাছে বিটিআরসি থেকে ই-মেইল ও খুদে বার্তা পাঠিয়ে ইন্টারনেট বন্ধের নির্দেশ আসে।
কারা করল, তদন্তে যা বের হলো
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের এক তদন্ত প্রতিবেদনে স্পষ্ট বলা হয়, ‘ইন্টারনেট বন্ধ ছিল সরকারের নির্দেশে’। সাবেক প্রতিমন্ত্রী পলক, বিটিআরসি ও এনটিএমসি এই সিদ্ধান্তে জড়িত ছিল। তদন্তে বের হয়ে আসে, কোনো ডেটা সেন্টার পুড়ে যায়নি বা কোনো সাবমেরিন কেবলও কাটা পড়েনি।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে জানান, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জুনাইদ আহমেদ পলক গণহত্যার সব পরিকল্পনার বিষয়ে জানতেন। এসব হত্যাকাণ্ডের তথ্য যাতে পুরো বিশ্ব ও দেশের মানুষ না জানতে পারেন, সেজন্য ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়েছিলেন তিনি।
ইন্টারনেটের সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ হয়ে যায় ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটকসহ অধিকাংশ সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম। সাধারণ ব্যবহারকারীরা তখন ভিপিএন ব্যবহার করে যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করেন। অথচ জানা যায়, সরকারপক্ষের মন্ত্রীরা বিশেষ ব্যবস্থায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করতেন।
৩১ জুলাই এসব প্ল্যাটফর্ম আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হলেও তার আগেই বিটিআরসি তলব করে ফেসবুক, ইউটিউব ও টিকটকের প্রতিনিধিদের। যদিও কেউ সাড়া দেয়নি। ব্যতিক্রম ছিল টিকটক, যারা মেইলে ব্যাখ্যা দিয়েছিল এবং সময় চেয়েছিল।
স্টার্টআপ বিনিয়োগে ধস, ই-কমার্সে ১৭০০ কোটি টাকার ক্ষতি
টানা পাঁচ দিনের ইন্টারনেট শাটডাউন এবং পরবর্তী ধীরগতির কারণে স্টার্টআপ খাতে বিনিয়োগ কমে আসে প্রায় ৫০ শতাংশ। লাইটক্যাসেল পার্টনার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৩ সালে ৭১ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ ২০২৪-এ এসে ঠেকে মাত্র ৩৫ মিলিয়নে। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা আর প্রযুক্তি শাটডাউনের কারণে আস্থা হারান বিনিয়োগকারীরা।
অন্যদিকে ই-কমার্স খাতের ব্যবসায়ীদের সংগঠন ই-ক্যাব জানায়, ইন্টারনেট বন্ধ থাকার কারণে প্রায় ১৭০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয় প্রথম ১০ দিনে।
এছাড়া দেশজুড়ে ইন্টারনেট শাটডাউনের জেরে বিপাকে পড়েন আইটি পেশাজীবী ও ফ্রিল্যান্সাররা। অনেকেই বাংলাদেশ ছাড়তে বাধ্য হন। ভারতের কলকাতা, দুবাই, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম ছাড়াও ভিন্ন গন্তব্য ছিল নেপাল। নেপালের ট্যুরিজম বোর্ড জানায়, জুলাই মাসেই বাংলাদেশ থেকে ৩৪৭০ পর্যটক প্রবেশ করেন, যাদের মধ্যে প্রায় ৬০০ জন ছিলেন ফ্রিল্যান্সার।
আইনের ছলে ইন্টারনেট বন্ধ : ৯৭ (২) ধারা বাতিলের আহ্বান
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইনের ৯৭ (২) ধারা অনুযায়ী, ‘রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলার স্বার্থে’ ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করা যায়। এই ধারাকে ব্যবহার করেই একের পর এক শাটডাউন ঘটেছে। তবে, বর্তমান সরকার এই ধারা বাতিলের সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে।
বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী সময়ে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, ৯৭ (২) ধারা বাতিল করা হবে। কালাকানুন নয়, এবার সময় এসেছে নতুন যুগে প্রবেশের।
তিনি আরও বলেন, কোনো সরকার যেন ইন্টারনেট বন্ধ করতে না পারে, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে ইন্টারনেটের দাম কমাতে বেশকিছু দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকার ইন্টারনেটের অবাধ প্রবাহ বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর। তবে, ভবিষ্যতেও যেন কোনো সরকারের পক্ষ থেকে ইন্টারনেট বন্ধ করা না হয় তার ওপর নির্দিষ্ট নীতিমালা ও আইন তৈরি করা হচ্ছে।
বিশেষ সহকারী বলেন, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য হলো ডিজিটাল বাংলাদেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করা এবং ইন্টারনেটের অবাধ প্রবাহ বজায় রাখা। এক্ষেত্রে চারটি বিষয়কে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে, যাতে দেশের টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি খাত আরও শক্তিশালী ও সুরক্ষিত হতে পারে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের প্রযুক্তি খাত আরও উন্নত হবে এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি একটি নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টি করবে। সরকার দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন ধরনের প্রযুক্তি সমাধান ও সহায়ক নীতি প্রণয়ন করছে, যাতে তারা বাংলাদেশে তাদের বিনিয়োগ আরও সহজ ও সুরক্ষিতভাবে করতে পারে।
ইন্টারনেট অবাধ রাখতে দেশে এলো ‘স্টারলিংক’
এক বছর আগে আন্দোলন থামাতে যখন পুরো দেশে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, তখন প্রশ্ন উঠেছিল— প্রযুক্তির এমন নির্ভরশীলতা আর সরকারের ইচ্ছার ওপর নির্ভরতাই কি আমাদের ভবিষ্যৎ? সেই বাস্তবতায় এক বছর পর দেশে যখন আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল স্যাটেলাইটনির্ভর ইন্টারনেট সেবা স্টারলিংক, তখন সেটিকে অনেকেই দেখছেন এক নতুন সম্ভাবনার দরজা হিসেবে। ৪২ হাজার টাকার এককালীন সেটআপ কিট ও সর্বোচ্চ ছয় হাজার টাকা মাসিক খরচে মিলবে সর্বোচ্চ ৩০০ এমবিপিএস গতির আনলিমিটেড কানেকশন— তাও কোনো ফাইবার ছাড়াই।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্টারলিংক শুধু উচ্চগতির বিকল্প নয়, বরং এটি সরকার নিয়ন্ত্রিত অবকাঠামোর বাইরের একটি স্বাধীন নেটওয়ার্ক। এটি ইন্টারনেট অবরোধের মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কার্যকর হতে পারে। বিশেষ করে দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে এটি শুধু কানেক্টিভিটির দিক থেকে নয়, গণতন্ত্র ও তথ্যপ্রবাহের স্বাধীনতাও নিশ্চিত করতে পারে। ফলে কোটা আন্দোলনের সময়কার ‘নেট-অন্ধকার’ ঠেকাতে এখন অনেকেই স্টারলিংক ভরসার নাম হিসেবে দেখছেন।
ইন্টারনেট বন্ধ : তদন্তে মিলেছে রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনার প্রমাণ
২০২৪ সালের ১৮ জুলাই। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামার সময় হঠাৎ থেমে যায় দেশের ডিজিটাল স্পন্দন ‘ইন্টারনেট’। প্রথম ধাপে বন্ধ হয় মোবাইল ইন্টারনেট, পরে ব্রডব্যান্ড। ধীরে ধীরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নেমে আসে ঘোর অন্ধকার। মানুষ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে আপন জগৎ থেকে। প্রযুক্তির শক্তি যেন হঠাৎ করেই নিষ্প্রভ হয়ে যায়। কে করল, কেন করল, কীভাবে হলো? এমন অসংখ্য প্রশ্নে মানুষ উদ্বিগ্ন হলেও তাৎক্ষণিকভাবে মেলেনি কোনো সদুত্তর।
সময় ঘুরে আবারও এলো ১৮ জুলাই (২০২৫ সাল)। ঘটনাবহুল দিনটির এক বছর পূর্তি আজ। এই এক বছরে অনেক কিছু বদলেছে, সরকার বদলেছে, প্রতিমন্ত্রী বদলেছেন কিন্তু বদলায়নি মানুষের মনে থাকা সেই ক্ষোভ আর প্রশ্ন। যার উত্তরও মিলেছে তদন্তে। তৎকালীন তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক নিজেই স্বীকার করেছেন যে, সেদিনের ইন্টারনেটের অনুপস্থিতি নিছক প্রযুক্তিগত কোনো বিষয় ছিল না। উল্টো এমন কাণ্ড ঘটানো হয়েছিল রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনায়।
দীর্ঘ এক বছর পর ফিরে দেখা যাক, কেমন ছিল সেই কালরাত্রি ও তার পরের ঘটনাপ্রবাহ।
যেভাবে বন্ধ হয় ইন্টারনেটের দুয়ার
কোটা সংস্কার আন্দোলন ইস্যুতে ২০২৪ সালের ১৭ জুলাই থেকে মোবাইল ইন্টারনেট কিছুটা ধীর হয়ে আসে। পরের দিন অর্থাৎ ১৮ জুলাই বিকেল থেকে রাত ৯টার মধ্যে দেশজুড়ে বন্ধ করে দেওয়া হয় মোবাইল ও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট। অজুহাত দেওয়া হয়, ঢাকার তেজগাঁও, মহাখালী ও বনানী অঞ্চলে আগুন দেওয়ার কারণে ডেটা সেন্টার পুড়ে গেছে, তাই বন্ধ হয়েছে নেট।
সাবেক ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক ওই সময় বলেন, ‘সরকার ইন্টারনেট বন্ধ করেনি, বন্ধ হয়ে গেছে’। তার এই বক্তব্যই যেন রসিকতা ও বাস্তবতার দোলাচল। অথচ এর আগেই দেশের আইআইজি, আইএসপি ও মোবাইল অপারেটরদের কাছে বিটিআরসি থেকে ই-মেইল ও খুদে বার্তা পাঠিয়ে ইন্টারনেট বন্ধের নির্দেশ আসে।
কারা করল, তদন্তে যা বের হলো
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের এক তদন্ত প্রতিবেদনে স্পষ্ট বলা হয়, ‘ইন্টারনেট বন্ধ ছিল সরকারের নির্দেশে’। সাবেক প্রতিমন্ত্রী পলক, বিটিআরসি ও এনটিএমসি এই সিদ্ধান্তে জড়িত ছিল। তদন্তে বের হয়ে আসে, কোনো ডেটা সেন্টার পুড়ে যায়নি বা কোনো সাবমেরিন কেবলও কাটা পড়েনি।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে জানান, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জুনাইদ আহমেদ পলক গণহত্যার সব পরিকল্পনার বিষয়ে জানতেন। এসব হত্যাকাণ্ডের তথ্য যাতে পুরো বিশ্ব ও দেশের মানুষ না জানতে পারেন, সেজন্য ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়েছিলেন তিনি।
ইন্টারনেটের সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ হয়ে যায় ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটকসহ অধিকাংশ সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম। সাধারণ ব্যবহারকারীরা তখন ভিপিএন ব্যবহার করে যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করেন। অথচ জানা যায়, সরকারপক্ষের মন্ত্রীরা বিশেষ ব্যবস্থায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করতেন।
৩১ জুলাই এসব প্ল্যাটফর্ম আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হলেও তার আগেই বিটিআরসি তলব করে ফেসবুক, ইউটিউব ও টিকটকের প্রতিনিধিদের। যদিও কেউ সাড়া দেয়নি। ব্যতিক্রম ছিল টিকটক, যারা মেইলে ব্যাখ্যা দিয়েছিল এবং সময় চেয়েছিল।
স্টার্টআপ বিনিয়োগে ধস, ই-কমার্সে ১৭০০ কোটি টাকার ক্ষতি
টানা পাঁচ দিনের ইন্টারনেট শাটডাউন এবং পরবর্তী ধীরগতির কারণে স্টার্টআপ খাতে বিনিয়োগ কমে আসে প্রায় ৫০ শতাংশ। লাইটক্যাসেল পার্টনার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৩ সালে ৭১ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ ২০২৪-এ এসে ঠেকে মাত্র ৩৫ মিলিয়নে। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা আর প্রযুক্তি শাটডাউনের কারণে আস্থা হারান বিনিয়োগকারীরা।
অন্যদিকে ই-কমার্স খাতের ব্যবসায়ীদের সংগঠন ই-ক্যাব জানায়, ইন্টারনেট বন্ধ থাকার কারণে প্রায় ১৭০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয় প্রথম ১০ দিনে।
এছাড়া দেশজুড়ে ইন্টারনেট শাটডাউনের জেরে বিপাকে পড়েন আইটি পেশাজীবী ও ফ্রিল্যান্সাররা। অনেকেই বাংলাদেশ ছাড়তে বাধ্য হন। ভারতের কলকাতা, দুবাই, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম ছাড়াও ভিন্ন গন্তব্য ছিল নেপাল। নেপালের ট্যুরিজম বোর্ড জানায়, জুলাই মাসেই বাংলাদেশ থেকে ৩৪৭০ পর্যটক প্রবেশ করেন, যাদের মধ্যে প্রায় ৬০০ জন ছিলেন ফ্রিল্যান্সার।
আইনের ছলে ইন্টারনেট বন্ধ : ৯৭ (২) ধারা বাতিলের আহ্বান
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইনের ৯৭ (২) ধারা অনুযায়ী, ‘রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলার স্বার্থে’ ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করা যায়। এই ধারাকে ব্যবহার করেই একের পর এক শাটডাউন ঘটেছে। তবে, বর্তমান সরকার এই ধারা বাতিলের সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে।
বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী সময়ে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, ৯৭ (২) ধারা বাতিল করা হবে। কালাকানুন নয়, এবার সময় এসেছে নতুন যুগে প্রবেশের।
তিনি আরও বলেন, কোনো সরকার যেন ইন্টারনেট বন্ধ করতে না পারে, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে ইন্টারনেটের দাম কমাতে বেশকিছু দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকার ইন্টারনেটের অবাধ প্রবাহ বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর। তবে, ভবিষ্যতেও যেন কোনো সরকারের পক্ষ থেকে ইন্টারনেট বন্ধ করা না হয় তার ওপর নির্দিষ্ট নীতিমালা ও আইন তৈরি করা হচ্ছে।
বিশেষ সহকারী বলেন, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য হলো ডিজিটাল বাংলাদেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করা এবং ইন্টারনেটের অবাধ প্রবাহ বজায় রাখা। এক্ষেত্রে চারটি বিষয়কে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে, যাতে দেশের টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি খাত আরও শক্তিশালী ও সুরক্ষিত হতে পারে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের প্রযুক্তি খাত আরও উন্নত হবে এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি একটি নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টি করবে। সরকার দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন ধরনের প্রযুক্তি সমাধান ও সহায়ক নীতি প্রণয়ন করছে, যাতে তারা বাংলাদেশে তাদের বিনিয়োগ আরও সহজ ও সুরক্ষিতভাবে করতে পারে।
ইন্টারনেট অবাধ রাখতে দেশে এলো ‘স্টারলিংক’
এক বছর আগে আন্দোলন থামাতে যখন পুরো দেশে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, তখন প্রশ্ন উঠেছিল— প্রযুক্তির এমন নির্ভরশীলতা আর সরকারের ইচ্ছার ওপর নির্ভরতাই কি আমাদের ভবিষ্যৎ? সেই বাস্তবতায় এক বছর পর দেশে যখন আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল স্যাটেলাইটনির্ভর ইন্টারনেট সেবা স্টারলিংক, তখন সেটিকে অনেকেই দেখছেন এক নতুন সম্ভাবনার দরজা হিসেবে। ৪২ হাজার টাকার এককালীন সেটআপ কিট ও সর্বোচ্চ ছয় হাজার টাকা মাসিক খরচে মিলবে সর্বোচ্চ ৩০০ এমবিপিএস গতির আনলিমিটেড কানেকশন— তাও কোনো ফাইবার ছাড়াই।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্টারলিংক শুধু উচ্চগতির বিকল্প নয়, বরং এটি সরকার নিয়ন্ত্রিত অবকাঠামোর বাইরের একটি স্বাধীন নেটওয়ার্ক। এটি ইন্টারনেট অবরোধের মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কার্যকর হতে পারে। বিশেষ করে দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে এটি শুধু কানেক্টিভিটির দিক থেকে নয়, গণতন্ত্র ও তথ্যপ্রবাহের স্বাধীনতাও নিশ্চিত করতে পারে। ফলে কোটা আন্দোলনের সময়কার ‘নেট-অন্ধকার’ ঠেকাতে এখন অনেকেই স্টারলিংক ভরসার নাম হিসেবে দেখছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ জাহিদ হোসেন
নির্বাহী সম্পাদক
আলহাজ্ব শেখ সিদ্দিকুর রহমান
বার্তা সম্পাদক
তাকছিমুন নাহার
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
ইঞ্জিনিয়ার কে এম মেহেদী হাসান
|
মোবাইল: ০১৭১১২৪৯৭৭০
হোয়াটস্অ্যাপ: ০১৭১১২৪৯৭৭০
প্রধান কার্যালয় মোহাম্মদপুর, ঢাকা।
Email: deshpatrika24@gmail.com |
প্রিন্টের তারিখ ও সময়: February 25, 2026, 3:32 pm