বন্ধ হচ্ছে অবৈধ মোবাইল সেট, মিলবে না নেটওয়ার্কও

  বিশেষ প্রতিনিধি    30-10-2025    162
বন্ধ হচ্ছে অবৈধ মোবাইল সেট, মিলবে না নেটওয়ার্কও

চলতি বছরের ১৬ ডিসেম্বর থেকে দেশে চালু হতে যাচ্ছে মোবাইল ফোনের জন্য জাতীয় পর্যায়ের ‘ন্যাশনাল ইক্যুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার’ (এনইআইআর)। এর মধ্য দিয়ে দেশের সব ধরনের ফোনের আইএমইআই নম্বর জাতীয় ডেটাবেইজে যুক্ত হচ্ছে। আর এই সিস্টেম চালুর পর অবৈধ বা আনঅফিসিয়াল পথে আসা যেকোনো মোবাইল সেট বাংলাদেশের নেটওয়ার্কে আর কাজ করবে না।

একইসঙ্গে বিদেশ থেকে ফোন আনলে কিংবা উপহার পেলে তা দেশের নেটওয়ার্কে চালু করতে হলে বাধ্যতামূলক রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। এক্ষেত্রে আবার লাগবে ওই ফোন ক্রয়ের বৈধ কাগজপত্র। এরই মধ্যে জাতীয় ডিভাইস শনাক্তকরণ ব্যবস্থা চালুর প্রস্তুতি নিয়ে কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।

কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মোবাইল ফোনের বাজারে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ বা আনঅফিসিয়াল পথে আসা সেট ব্যবহারের প্রবণতা বেড়ে গেছে। এসব ফোন শুধু সরকারের রাজস্ব ক্ষতি করছে না, বরং এসব ডিভাইসের মাধ্যমে সংঘটিত হচ্ছে নানা অপরাধও। অপরাধীরা প্রায়ই অচিহ্নিত বা রেজিস্ট্রেশনবিহীন ফোন ব্যবহার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি রোধে এবং মোবাইল নেটওয়ার্ককে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রিত ও নিরাপদ রাখতে চালু করা হচ্ছে ন্যাশনাল ইক্যুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর)।

বিটিআরসি কর্মকর্তারা বলছেন, এই নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হলে দেশের টেলিযোগাযোগ খাত এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করবে। বিদেশ থেকে আনা যেকোনো ফোন সেট ব্যবহারের আগে নিবন্ধন করতে হবে জাতীয় ডেটাবেইজে। ফলে, ফোনের আইএমইআই নম্বরের মাধ্যমে সহজে শনাক্ত করা যাবে সেটটি বৈধ না অবৈধ। এতে একদিকে যেমন সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে, অন্যদিকে সুরক্ষা পাবে দেশীয় মোবাইল শিল্প। পাশাপাশি, অবৈধভাবে আমদানি বা ব্যবহার করা ফোন চিহ্নিত হলে সাইবার অপরাধ ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি রোধ করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে দেশের টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক হয়ে উঠবে শতভাগ বৈধ ডিভাইসভিত্তিক। তবে, বর্তমানে মোবাইল ফোন নেটওয়ার্কে সচল সব বৈধ বা অবৈধভাবে আমদানিকৃত মোবাইল হ্যান্ডসেট ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধিত হবে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) স্পেকট্রাম বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আমিনুল হক বলেন, ন্যাশনাল ইক্যুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার সিস্টেম তৈরির মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের মোবাইল নেটওয়ার্কে অবৈধ ও চোরাই মোবাইল হ্যান্ডসেটের ব্যবহার রোধ করা।

তিনি আরও বলেন, এর মাধ্যমে মোবাইল ফোন ক্লোনিং ও চুরি প্রতিরোধের পাশাপাশি বাংলাদেশের স্থানীয় মোবাইল ফোন শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে সরকারের রাজস্ব ক্ষতি বন্ধ করা এবং গ্রাহকদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের বৈধতা যাচাইয়ের জন্য একটি কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। তাছাড়া, মোবাইল ফোনের ডেটা অ্যানালিটিক্স ব্যবহারের মাধ্যমে সার্বিকভাবে টেলিযোগাযোগ সেবার মান উন্নয়নেও এই সিস্টেম সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

নতুন হ্যান্ডসেটের ক্ষেত্রে কী হবে?

নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি সূত্রে জানা গেছে, ১৬ ডিসেম্বরের পর নতুন যেসব মোবাইল ফোন নেটওয়ার্কে যুক্ত হবে, সেগুলো প্রথমে অস্থায়ীভাবে নেটওয়ার্কে সচল থাকবে। এরপর এনইআইআর সিস্টেমের মাধ্যমে বৈধতা যাচাই করা হবে। হ্যান্ডসেটটি বৈধ হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধিত থেকে সচল থাকবে।

অন্যদিকে, কোনো ফোন অবৈধ হলে গ্রাহককে এসএমএসের মাধ্যমে জানানো হবে এবং একমাসের সময় দেওয়া হবে। এই সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে ফোনটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। তবে, বিদেশ থেকে ব্যক্তিগতভাবে ক্রয়কৃত বা উপহারপ্রাপ্ত হ্যান্ডসেটের ক্ষেত্রে বিশেষ নিবন্ধনের সুযোগ থাকবে, যাতে বৈধভাবে আনা ডিভাইসগুলো ব্যবহারের অনুমতি পায়। বিদেশ থেকে আনা ফোনের জন্য বিশেষ নিবন্ধনের ব্যবস্থা

বিদেশ থেকে কেনা বা উপহার পাওয়া মোবাইল হ্যান্ডসেট প্রাথমিকভাবে নেটওয়ার্কে সচল থাকবে। এরপর গ্রাহককে এসএমএসের মাধ্যমে ৩০ দিনের মধ্যে অনলাইনে প্রয়োজনীয় তথ্য দাখিল করার নির্দেশনা দেওয়া হবে। দাখিলকৃত তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ হ্যান্ডসেট নিবন্ধনের মাধ্যমে সচল থাকবে, আর অবৈধ হ্যান্ডসেট নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন করা হবে।

এই নিবন্ধনের জন্য গ্রাহককে (neir.btrc.gov.bd) ওয়েবসাইটে গিয়ে ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে এবং সেখানে Special Registration সেকশনে গিয়ে হ্যান্ডসেটের IMEI নম্বর ও প্রমাণপত্র (যেমন— পাসপোর্ট, ভিসা, ক্রয় রশিদ, কাস্টমস রশিদ ইত্যাদি) আপলোড করতে হবে।

জাতীয়-এর আরও খবর