বন্ধ হওয়ার পথে ৫৪ কমিউনিটি ক্লিনিক

  বিশেষ প্রতিনিধি    19-08-2026    2
বন্ধ হওয়ার পথে ৫৪ কমিউনিটি ক্লিনিক

জনবলসংকটে খুঁড়িয়ে চলছে সিলেটের তৃণমূল স্বাস্থ্যসেবা। বিভাগের স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর মঞ্জুরীকৃত পদের প্রায় অর্ধেকই শূন্য। এর সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কার্যক্রমে। সিলেট বিভাগের ৯৫৩টি কমিউনিটি ক্লিনিকের মধ্যে ৫৪টিতে ‘কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি)’ পদ শূন্য রয়েছে। ফলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবার ‘প্রথম সিঁড়ি’ হিসেবে পরিচিত এসব ক্লিনিকের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং অনেক ক্লিনিক বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় অফিস সূত্রে জানা গেছে, কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে প্রাথমিক চিকিৎসার পাশাপাশি গর্ভবতী ও প্রসূতি মায়েদের স্বাস্থ্যসেবা, শিশুদের চিকিৎসা, টিকাদানসহ মা ও শিশুর বিভিন্ন ধরনের সেবা দেওয়া হয়। সাধারণত সপ্তাহে পাঁচ দিন একজন সিএইচসিপি এসব সেবা দিয়ে থাকেন। পাশাপাশি সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন স্বাস্থ্যসহকারী ও পরিবার পরিকল্পনা সহকারীরা বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করেন।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য অফিসের তথ্য অনুযায়ী, সিলেট বিভাগের ৫৪টি কমিউনিটি ক্লিনিকে বর্তমানে সিএইচসিপি নেই। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পদ শূন্য রয়েছে সুনামগঞ্জে—২২টি। এ ছাড়া সিলেটে ১৮টি, হবিগঞ্জে ১১টি এবং মৌলভীবাজারে ৩টি কমিউনিটি ক্লিনিকে সিএইচসিপির পদ শূন্য রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব পদ শূন্য থাকায় সংশ্লিষ্ট এলাকার রোগীরা নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে সরকারিভাবে ২৮ ধরনের ওষুধ বিনামূল্যে দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে সিএইচসিপির সংকটের পাশাপাশি অনেক ক্লিনিকে প্রয়োজনীয় ওষুধের পর্যাপ্ত সরবরাহও নেই বলে জানা গেছে। এতে প্রান্তিক মানুষের জন্য বিনামূল্যের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা আরও দুর্বল হয়ে পড়ছে।

কমিউনিটি ক্লিনিকের পাশাপাশি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রগুলোর অবস্থাও নাজুক। একসময় এসব স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়মিত এমবিবিএস চিকিৎসক দায়িত্ব পালন করলেও বর্তমানে অনেক কেন্দ্রে স্বাস্থ্যসহকারী ও ফার্মাসিস্ট দিয়েই কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। আবার অনেক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে স্বাস্থ্যসহকারী ও ফার্মাসিস্টের পদও শূন্য রয়েছে।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য অফিস সূত্র জানায়, সিলেট বিভাগের সব হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে মঞ্জুরীকৃত পদের সংখ্যা ৮ হাজার ৪১১টি। এর মধ্যে ৩ হাজার ৫৫৬টি পদই শূন্য। সবচেয়ে বেশি জনবলসংকট সুনামগঞ্জে। জেলাটিতে ২ হাজার ৩৭৩টি মঞ্জুরীকৃত পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন ১ হাজার ২২৯ জন। ফলে শূন্য রয়েছে ১ হাজার ১৪৪টি পদ।

সিলেট জেলায় ২ হাজার ৫৫১টি মঞ্জুরীকৃত পদের মধ্যে কর্মরত আছেন ১ হাজার ৪৬০ জন এবং শূন্য রয়েছে ১ হাজার ৯১টি পদ। হবিগঞ্জে ১ হাজার ৭০৮টি পদের মধ্যে ৭৬১টি এবং মৌলভীবাজারে ১ হাজার ৭৭৯টি পদের মধ্যে ৫৬০টি পদ শূন্য রয়েছে।

সিলেট স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী পরিচালক ডা. মো. নূরে আলম শামীম বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগের প্রায় সব পর্যায়েই জনবলসংকট রয়েছে। কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো ‘কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্ট’-এর মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ায় চাকরি ও প্রকল্পের স্থায়িত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে অনেক সিএইচসিপি চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন। এতে কিছু পদ শূন্য হয়েছে।

তিনি জানান, শিগগিরই শূন্য পদগুলো পূরণের সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের মাধ্যমে সিলেট বিভাগের স্বাস্থ্যসেবার মান আরও উন্নত করার চেষ্টা চলছে।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য-এর আরও খবর