শেরেবাংলা নগরে স্থানান্তর হচ্ছে সচিবালয়, ব্যয় প্রস্তাব ৩,৪০৯ কোটি টাকা

নতুন সচিবালয় নির্মাণের প্রকল্প প্রস্তাব তৈরির কাজ চলছে, ডিসেম্বরে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের লক্ষ্য

  বিশেষ প্রতিনিধি । দেশ পত্রিকা     12-10-2026    35
শেরেবাংলা নগরে স্থানান্তর হচ্ছে সচিবালয়, ব্যয় প্রস্তাব ৩,৪০৯ কোটি টাকা

রাজধানীর আবদুল গনি রোডে অবস্থিত বর্তমান সচিবালয় শেরেবাংলা নগরে স্থানান্তরের পরিকল্পনা করছে সরকার। পাশাপাশি বর্তমান সচিবালয় চত্বরে পুরান ঢাকার নিম্ন আদালত স্থানান্তরের পরিকল্পনাও রয়েছে। এ লক্ষ্যে নতুন সচিবালয় নির্মাণের প্রকল্প প্রস্তাব তৈরির কাজ চলছে। তবে প্রকল্পটি এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি।

প্রস্তাবিত প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৪০৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষ করে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নির্মাণকাজের উদ্বোধন করতে চায় সরকার। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা যাবে কি না, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনার পর সচিবালয় স্থানান্তরের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তৎপরতা বেড়েছে। এ লক্ষ্যে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরির কাজ চলছে। গণপূর্ত অধিদপ্তর ইতিমধ্যে প্রস্তাবিত ভবনগুলোর অবস্থান নির্ধারণ করে একটি লে-আউট প্রস্তুত করেছে।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী গণমাধ্যমকে জানান, সচিবালয় স্থানান্তরের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুসরণ করে প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পের নকশাও প্রধানমন্ত্রী দেখেছেন এবং এ বিষয়ে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছেন। সেসব পরামর্শ বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাস্তবায়নকাল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, প্রকল্পটির প্রস্তাবিত বাস্তবায়নকাল চলতি বছরের নভেম্বর থেকে ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) অননুমোদিত নতুন প্রকল্পের তালিকায় এটি অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। এ জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য গণপূর্ত অধিদপ্তর থেকে মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপন করা হবে। সেখানে অনুমোদন পাওয়া গেলে নির্মাণকাজ শুরুর আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ নেওয়া হবে। ডিসেম্বরের মধ্যে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের লক্ষ্য থাকলেও প্রকল্প অনুমোদন ও অন্যান্য প্রস্তুতি শেষ করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

তিনটি নকশা নিয়ে কাজ নতুন সচিবালয় কমপ্লেক্সের নকশা প্রণয়নে কাজ করছে স্থাপত্য অধিদপ্তর। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর সামনে তিনটি বিকল্প নকশা উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রকল্প অনুমোদনের পর গণপূর্ত অধিদপ্তরের মাধ্যমে নির্মাণকাজ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রাথমিক পরিকল্পনায় প্রথম ধাপে তিন বছরের মধ্যে কয়েকটি মন্ত্রণালয় নতুন স্থানে স্থানান্তরের লক্ষ্য রাখা হয়েছে। তবে সব ভবন নির্মাণ, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি এবং দাপ্তরিক কার্যক্রম স্থানান্তরের পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে আরও সময় লাগতে পারে।

নতুন সচিবালয় নির্মিত হলে রাজধানীর প্রশাসনিক অবকাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। তবে প্রকল্পের ব্যয়, নকশা ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা এখনো চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

জাতীয়-এর আরও খবর