ধর্মীয় পরিচয়ে বৈষম্য নয়, সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব: রাষ্ট্রপতি

  বিশেষ প্রতিনিধি । দেশ পত্রিকা     16-10-2026    16
ধর্মীয় পরিচয়ে বৈষম্য নয়, সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব: রাষ্ট্রপতি

ধর্ম-বর্ণ কিংবা সাম্প্রদায়িক পরিচয়ের কারণে কোনো নাগরিক যেন বৈষম্য, বঞ্চনা বা নিরাপত্তাহীনতার শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি দেশে ও বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশের হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

দুর্গোৎসব সম্প্রীতির অনন্য উদাহরণ বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, আবহমানকাল ধরে বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায় উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদ্‌যাপন করে আসছে। এ উৎসব দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির একটি অনন্য উদাহরণ। দুর্গাপূজা শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব নয়; এর সঙ্গে মিশে আছে বাংলার সমাজ, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য।

তিনি বলেন, শরতের নির্মল আকাশ, শুভ্র কাশফুল ও উৎসবমুখর পরিবেশে দেবী দুর্গার আগমন ভক্তদের হৃদয়ে নতুন আশা ও কল্যাণের প্রত্যয় জাগিয়ে তোলে। এ উৎসবের অন্তর্নিহিত বার্তা হলো অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সত্য, সুন্দর ও কল্যাণের জয়। অন্যায়, অসত্য ও অমানবিকতার বিরুদ্ধে ন্যায় ও মানবতার চিরন্তন আহ্বানই দুর্গোৎসবের মূল শিক্ষা।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, এ উৎসবে সমাজের সব স্তরের মানুষ সৌহার্দ্যের বন্ধনে আবদ্ধ হন। জাগ্রত হয় পারস্পরিক সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ। ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সবার মধ্যে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান উন্নয়নে সহায়তা অব্যাহত বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, সরকার দেশের অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মতো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয়ের পরিচালনা, সংস্কার ও উন্নয়নে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি পুরোহিতদের মাসিক সম্মানী ভাতা প্রদান, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের কার্যক্রম জোরদার এবং ধর্মীয় কল্যাণমূলক অনুদান ও ব্যবস্থাপনায় আরও কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, হিন্দু ধর্মাবলম্বীসহ দেশের সব ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষ যেন নিজ নিজ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান স্বাধীনভাবে, নির্ভয়ে ও নিরাপদ পরিবেশে পালন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে সবাইকে কাজ করতে হবে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রতিটি ধর্মই মানুষকে সত্য, ন্যায়, সংযম ও মানবকল্যাণের শিক্ষা দেয়। তাই নিজ নিজ ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার পাশাপাশি মানবতার কল্যাণে সবাইকে নিবেদিত হতে হবে। দুর্গোৎসবের আনন্দ সমাজের অসহায়, দুস্থ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মধ্যেও ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বাণীর শেষাংশে রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, শারদীয় দুর্গোৎসব হিন্দু সম্প্রদায়ের সবার জীবনে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি বয়ে আনবে। সব ভেদাভেদ ভুলে মানবতা, ন্যায় ও কল্যাণের বার্তা ছড়িয়ে পড়বে ঘরে ঘরে। একই সঙ্গে দেশে ও বিদেশে দুর্গোৎসব উপলক্ষে গৃহীত সব কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন তিনি।

জাতীয়-এর আরও খবর