জন্ডিস সেরে যাওয়ার পরও রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা বাড়তে পারে। চোখের সাদা অংশ ও ত্বকও মাঝেমধ্যে হলদেটে হয়ে ওঠে। লক্ষণগুলো জন্ডিসের মতো হলেও সব ক্ষেত্রে এটি জন্ডিস নয়। এমনই একটি বংশগত অবস্থা হলো গিলবার্ট সিনড্রোম। রোগটি সাধারণত গুরুতর নয়, তবে এ সম্পর্কে সচেতনতা না থাকায় অনেকেই অকারণে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।
গিলবার্ট সিনড্রোমে আক্রান্ত ব্যক্তিদের রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা সাময়িকভাবে বেড়ে যেতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকা, পানিশূন্যতা, শারীরিক অসুস্থতা, অতিরিক্ত পরিশ্রম কিংবা মানসিক চাপের সময় এ প্রবণতা দেখা যায়। ফলে চোখের সাদা অংশ বা ত্বক সামান্য হলুদ হয়ে উঠতে পারে। তবে এটি সাধারণত লিভারের গুরুতর কোনো রোগ নয় এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিশেষ চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না।
কী এই গিলবার্ট সিনড্রোম?
রক্তের লোহিত কণিকার গড় আয়ু প্রায় ১২০ দিন। পুরোনো লোহিত কণিকা ভেঙে গেলে হিমোগ্লোবিন থেকে বিলিরুবিন নামের একটি হলুদ রঞ্জক পদার্থ তৈরি হয়। এই বিলিরুবিন রক্তের মাধ্যমে লিভারে পৌঁছায়। সেখানে প্রক্রিয়াজাত হওয়ার পর পিত্তের সঙ্গে অন্ত্রে যায় এবং শেষ পর্যন্ত শরীর থেকে বর্জ্য হিসেবে বেরিয়ে যায়।
স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় বিলিরুবিন শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে না পারলে রক্তে এর মাত্রা বেড়ে যায়। তখন জন্ডিসের লক্ষণ দেখা দিতে পারে। গিলবার্ট সিনড্রোমের ক্ষেত্রে লিভারের বিলিরুবিন প্রক্রিয়াজাত করার ক্ষমতা কিছুটা কম থাকে। ফলে রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা মাঝেমধ্যে বেড়ে যায় এবং চোখ বা ত্বকে হলদেটে ভাব দেখা দিতে পারে।
এর পেছনে রয়েছে বংশগত কারণ। গিলবার্ট সিনড্রোমে আক্রান্ত ব্যক্তিদের শরীরে ‘ইউজিটি১এ১’ (UGT1A1) নামের জিনে পরিবর্তন থাকে। এই পরিবর্তনের কারণে লিভার বিলিরুবিনকে স্বাভাবিক গতিতে প্রক্রিয়াজাত করতে পারে না। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা বেড়ে যাওয়াকে বলা হয় ‘হাইপারবিলিরুবিনেমিয়া’। তবে হাইপারবিলিরুবিনেমিয়ার সব ঘটনাই গিলবার্ট সিনড্রোমের কারণে ঘটে না।
গিলবার্ট সিনড্রোমের লক্ষণ কী কী?
গিলবার্ট সিনড্রোমে আক্রান্ত অনেকেরই কোনো লক্ষণ থাকে না। তবে রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা বেড়ে গেলে কয়েকটি লক্ষণ দেখা দিতে পারে। যেমন—
চোখের সাদা অংশ ও ত্বক সাময়িকভাবে হলুদ হয়ে যাওয়া।
বিশেষ করে দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকা, অসুস্থতা বা অতিরিক্ত পরিশ্রমের পর হলদেটে ভাব বেড়ে যাওয়া।
কোনো কোনো ক্ষেত্রে ক্লান্তি বা দুর্বলতা অনুভব করা।
কিছু ব্যক্তির ক্ষেত্রে পেটের অস্বস্তি বা বমি বমি ভাব দেখা দিতে পারে।
তবে এসব লক্ষণ থাকলেই গিলবার্ট সিনড্রোম হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়। চোখ ও ত্বক হলুদ হওয়ার পেছনে লিভার, পিত্তনালি বা রক্তের বিভিন্ন রোগও থাকতে পারে। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ ও পরীক্ষা জরুরি।
গিলবার্ট সিনড্রোম থাকলে যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকবেন
গিলবার্ট সিনড্রোম সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি হলেও ক্ষতিকর নয়। দৈনন্দিন জীবনযাপনে কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকলে রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। যেমন—
দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকা বা হঠাৎ উপবাস করা এড়িয়ে চলুন। নিয়মিত খাবার গ্রহণ করুন।
শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি হতে দেবেন না। পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার গ্রহণ করুন।
অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রমের পর পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন।
মানসিক চাপ কমানোর চেষ্টা করুন এবং পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন।
জ্বর, সর্দি-কাশি বা অন্য কোনো অসুস্থতা দেখা দিলে অবহেলা করবেন না।
অ্যালকোহল গ্রহণ এড়িয়ে চলুন বা সীমিত রাখুন। ধূমপানও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ গ্রহণ করবেন না। কিছু ওষুধের ক্ষেত্রে গিলবার্ট সিনড্রোমের বিষয়টি চিকিৎসককে জানানো প্রয়োজন।
গিলবার্ট সিনড্রোম সাধারণত জীবনযাত্রায় বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি করে না। তবে চোখ বা ত্বক হলুদ হয়ে গেলে কিংবা বিলিরুবিনের মাত্রা বেড়ে গেলে নিজে থেকে এটিকে গিলবার্ট সিনড্রোম ভেবে নেওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে নতুন করে জন্ডিসের লক্ষণ দেখা দিলে, পেটব্যথা, জ্বর বা গাঢ় প্রস্রাব হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সঠিক রোগ নির্ণয়ই অপ্রয়োজনীয় উদ্বেগ এড়ানোর পাশাপাশি অন্য কোনো গুরুতর রোগ থাকলে তা শনাক্ত করতে সাহায্য করে।
চোখ-ত্বক হলুদ হয়, বিলিরুবিনও বাড়ে—তবু জন্ডিস নয়, গিলবার্ট সিনড্রোম নিয়ে কেন বাড়ছে উদ্বেগ?
জন্ডিস সেরে যাওয়ার পরও রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা বাড়তে পারে। চোখের সাদা অংশ ও ত্বকও মাঝেমধ্যে হলদেটে হয়ে ওঠে। লক্ষণগুলো জন্ডিসের মতো হলেও সব ক্ষেত্রে এটি জন্ডিস নয়। এমনই একটি বংশগত অবস্থা হলো গিলবার্ট সিনড্রোম। রোগটি সাধারণত গুরুতর নয়, তবে এ সম্পর্কে সচেতনতা না থাকায় অনেকেই অকারণে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।
গিলবার্ট সিনড্রোমে আক্রান্ত ব্যক্তিদের রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা সাময়িকভাবে বেড়ে যেতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকা, পানিশূন্যতা, শারীরিক অসুস্থতা, অতিরিক্ত পরিশ্রম কিংবা মানসিক চাপের সময় এ প্রবণতা দেখা যায়। ফলে চোখের সাদা অংশ বা ত্বক সামান্য হলুদ হয়ে উঠতে পারে। তবে এটি সাধারণত লিভারের গুরুতর কোনো রোগ নয় এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিশেষ চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না।
কী এই গিলবার্ট সিনড্রোম?
রক্তের লোহিত কণিকার গড় আয়ু প্রায় ১২০ দিন। পুরোনো লোহিত কণিকা ভেঙে গেলে হিমোগ্লোবিন থেকে বিলিরুবিন নামের একটি হলুদ রঞ্জক পদার্থ তৈরি হয়। এই বিলিরুবিন রক্তের মাধ্যমে লিভারে পৌঁছায়। সেখানে প্রক্রিয়াজাত হওয়ার পর পিত্তের সঙ্গে অন্ত্রে যায় এবং শেষ পর্যন্ত শরীর থেকে বর্জ্য হিসেবে বেরিয়ে যায়।
স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় বিলিরুবিন শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে না পারলে রক্তে এর মাত্রা বেড়ে যায়। তখন জন্ডিসের লক্ষণ দেখা দিতে পারে। গিলবার্ট সিনড্রোমের ক্ষেত্রে লিভারের বিলিরুবিন প্রক্রিয়াজাত করার ক্ষমতা কিছুটা কম থাকে। ফলে রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা মাঝেমধ্যে বেড়ে যায় এবং চোখ বা ত্বকে হলদেটে ভাব দেখা দিতে পারে।
এর পেছনে রয়েছে বংশগত কারণ। গিলবার্ট সিনড্রোমে আক্রান্ত ব্যক্তিদের শরীরে ‘ইউজিটি১এ১’ (UGT1A1) নামের জিনে পরিবর্তন থাকে। এই পরিবর্তনের কারণে লিভার বিলিরুবিনকে স্বাভাবিক গতিতে প্রক্রিয়াজাত করতে পারে না। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা বেড়ে যাওয়াকে বলা হয় ‘হাইপারবিলিরুবিনেমিয়া’। তবে হাইপারবিলিরুবিনেমিয়ার সব ঘটনাই গিলবার্ট সিনড্রোমের কারণে ঘটে না।
গিলবার্ট সিনড্রোমের লক্ষণ কী কী?
গিলবার্ট সিনড্রোমে আক্রান্ত অনেকেরই কোনো লক্ষণ থাকে না। তবে রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা বেড়ে গেলে কয়েকটি লক্ষণ দেখা দিতে পারে। যেমন—
চোখের সাদা অংশ ও ত্বক সাময়িকভাবে হলুদ হয়ে যাওয়া।
বিশেষ করে দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকা, অসুস্থতা বা অতিরিক্ত পরিশ্রমের পর হলদেটে ভাব বেড়ে যাওয়া।
কোনো কোনো ক্ষেত্রে ক্লান্তি বা দুর্বলতা অনুভব করা।
কিছু ব্যক্তির ক্ষেত্রে পেটের অস্বস্তি বা বমি বমি ভাব দেখা দিতে পারে।
তবে এসব লক্ষণ থাকলেই গিলবার্ট সিনড্রোম হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়। চোখ ও ত্বক হলুদ হওয়ার পেছনে লিভার, পিত্তনালি বা রক্তের বিভিন্ন রোগও থাকতে পারে। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ ও পরীক্ষা জরুরি।
গিলবার্ট সিনড্রোম থাকলে যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকবেন
গিলবার্ট সিনড্রোম সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি হলেও ক্ষতিকর নয়। দৈনন্দিন জীবনযাপনে কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকলে রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। যেমন—
দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকা বা হঠাৎ উপবাস করা এড়িয়ে চলুন। নিয়মিত খাবার গ্রহণ করুন।
শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি হতে দেবেন না। পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার গ্রহণ করুন।
অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রমের পর পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন।
মানসিক চাপ কমানোর চেষ্টা করুন এবং পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন।
জ্বর, সর্দি-কাশি বা অন্য কোনো অসুস্থতা দেখা দিলে অবহেলা করবেন না।
অ্যালকোহল গ্রহণ এড়িয়ে চলুন বা সীমিত রাখুন। ধূমপানও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ গ্রহণ করবেন না। কিছু ওষুধের ক্ষেত্রে গিলবার্ট সিনড্রোমের বিষয়টি চিকিৎসককে জানানো প্রয়োজন।
গিলবার্ট সিনড্রোম সাধারণত জীবনযাত্রায় বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি করে না। তবে চোখ বা ত্বক হলুদ হয়ে গেলে কিংবা বিলিরুবিনের মাত্রা বেড়ে গেলে নিজে থেকে এটিকে গিলবার্ট সিনড্রোম ভেবে নেওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে নতুন করে জন্ডিসের লক্ষণ দেখা দিলে, পেটব্যথা, জ্বর বা গাঢ় প্রস্রাব হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সঠিক রোগ নির্ণয়ই অপ্রয়োজনীয় উদ্বেগ এড়ানোর পাশাপাশি অন্য কোনো গুরুতর রোগ থাকলে তা শনাক্ত করতে সাহায্য করে।
সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ জাহিদ হোসেন
নির্বাহী সম্পাদক
আলহাজ্ব শেখ সিদ্দিকুর রহমান
বার্তা সম্পাদক
তাকছিমুন নাহার
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
ইঞ্জিনিয়ার কে এম মেহেদী হাসান
|
মোবাইল: ০১৭১১২৪৯৭৭০
হোয়াটস্অ্যাপ: ০১৭১১২৪৯৭৭০
প্রধান কার্যালয় মোহাম্মদপুর, ঢাকা।
Email: deshpatrika24@gmail.com |
প্রিন্টের তারিখ ও সময়: November 4, 2026, 2:36 pm