দেশে প্রথমবারের মতো সিরাজগঞ্জে ‘চর উৎসব’

  বিশেষ প্রতিনিধি । দেশ পত্রিকা     24-10-2026    10
দেশে প্রথমবারের মতো সিরাজগঞ্জে ‘চর উৎসব’

যমুনা নদীতে নৌভ্রমণ, রঙিন ঘুড়ি ওড়ানো, বাউলসংগীত এবং ঐতিহ্যবাহী খাবারের আয়োজনের মধ্য দিয়ে সিরাজগঞ্জে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘চর উৎসব’। চরাঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, গ্রামীণ জীবনযাত্রা ও স্থানীয় ঐতিহ্যকে পর্যটনের আকর্ষণ হিসেবে তুলে ধরা এবং চরের মানুষের সঙ্গে শহরবাসীর যোগাযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়। এতে শহরের বিভিন্ন পরিবারের পাশাপাশি শিশুদের অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য।

শুক্রবার সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার মেছড়া ইউনিয়নের চরাঞ্চলে দিনব্যাপী এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। সমবায় ও সামাজিক সংগঠন ‘সমধারা’ আয়োজিত এ উৎসবের ইভেন্ট পার্টনার ছিল পর্যটন উদ্যোগ ‘স্মার্ট ট্যুরিজম’।

নৌভ্রমণ, ঘুড়ি ওড়ানো ও ঐতিহ্যবাহী খাবার

উৎসবে ছিল যমুনা নদীতে নৌভ্রমণ, ঘুড়ি ওড়ানো, বাউলসংগীত এবং সিরাজগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী খাবার পিটুলি পরিবেশন। অতিথিদের কলাপাতায় খাবার পরিবেশন করা হয়। সাজসজ্জায় ব্যবহার করা হয় সিরাজগঞ্জের ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য গামছা। শিশুদের মধ্যে ঘুড়ি ও খাবার বিতরণ করা হয়। স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণে উৎসবটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

আয়োজকদের মতে, যমুনার বুকে জেগে ওঠা চর, বিস্তীর্ণ বালুচর এবং চরের মানুষের জীবনযাত্রাকে ঘিরে পর্যটনের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। চরাঞ্চলকে ভিলেজ ট্যুরিজমের আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরা, নতুন প্রজন্মকে গ্রামীণ ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত করা এবং স্থানীয় সংস্কৃতি সংরক্ষণই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। তাঁদের প্রত্যাশা, এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে চরের মানুষের সঙ্গে শহরবাসীর যোগাযোগ বাড়বে এবং স্থানীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির বিকাশে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

চরের সম্ভাবনা তুলে ধরাই লক্ষ্য

সমধারার সভাপতি ও সাংবাদিক আব্দুল্লাহ আল সাফি বলেন, ‘চরের নিজস্ব সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। যমুনা নদীতে নৌভ্রমণ এবং চরাঞ্চলের প্রকৃতিকে ঘিরে পর্যটনের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে। চর উৎসবের মধ্য দিয়ে আমরা চরের সম্ভাবনাকে সবার সামনে তুলে ধরতে চেয়েছি। চরের মানুষকে সম্পৃক্ত করে স্থানীয় খাবার, সাজসজ্জা ও সংস্কৃতিকে গুরুত্ব দিয়ে আয়োজনটি করা হয়েছে, যাতে শহরের মানুষ, বিশেষ করে নতুন প্রজন্ম, চরের জীবন ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য, এ ধরনের উৎসব ও জমায়েতের মাধ্যমে বিচ্ছিন্ন জনপদের মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক ও যোগাযোগ বাড়ানো, স্থানীয় ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং ভিলেজ ট্যুরিজমের বিকাশে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করা।’

সমধারার সাধারণ সম্পাদক ও সাংবাদিক প্রতীক মাহমুদ বলেন, ‘সিরাজগঞ্জে প্রথমবারের মতো চর উৎসবের আয়োজনের মধ্য দিয়ে চরের মানুষের জীবনযাপন, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সম্ভাবনাকে সবার সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। চরের সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি এখানকার মানুষের সঙ্গে অতিথিদের পরিচিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। আমরা চাই, এ ধরনের আয়োজনের মধ্য দিয়ে চরাঞ্চল সম্পর্কে মানুষের আগ্রহ বাড়ুক এবং চরের মানুষের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হোক।’

স্মার্ট ট্যুরিজমের প্রতিষ্ঠাতা মো. আসলাম উদ্দিন বলেন, ‘সিরাজগঞ্জ তথা চরাঞ্চলের পর্যটন সম্ভাবনাকে তুলে ধরতে এ আয়োজন করতে পেরে আমরা গর্বিত। আমরা আশা করি, দেশের পর্যটনের নতুন ঠিকানা হিসেবে চরাঞ্চলকে পরিচিত করার ক্ষেত্রে চর উৎসব একটি নতুন সংযোজন হবে। সামনের দিনগুলোতে এ ধরনের আরও আয়োজনের মাধ্যমে আমরা ভিলেজ ট্যুরিজমকে এগিয়ে নিতে চাই।’

উৎসবে উপস্থিত ছিলেন যাঁরা

চর উৎসবে আরও উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম বাবু, লেখক ও সংগঠক শ্যামলী খান, কবি শামীমা আফরোজ হ্যাপি, লেখক সুরাইয়া ইসলাম, উদ্যোক্তা শামীমা সুলতানা সাথী, সমধারার কোষাধ্যক্ষ বাবলা বাশার, ব্যবসায়ী এনামুল প্রবালসহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা।

শিল্প ও সংস্কৃতি-এর আরও খবর