গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

সংসদ সচিবালয় থেকে নির্বাচন কমিশনে যাবে চিঠি

  সাতক্ষীরা প্রতিনিধি । দেশ পত্রিকা     11-08-2026    44
গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

ব্যক্তিগত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় নৈতিক স্খলনের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের এমপি পদ নিয়ে চূড়ান্ত প্রক্রিয়া শুরু করেছে সংসদ সচিবালয়। তাঁর সংসদ সদস্য পদ বহাল থাকবে কি না, সে বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিতে শিগগিরই নির্বাচন কমিশনে (ইসি) চিঠি পাঠানো হবে।

সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, জামায়াতে ইসলামী ইতোমধ্যে গাজী নজরুলকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানিয়ে স্পিকার ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে চিঠি দিয়েছে। সেই চিঠির ভিত্তিতেই সংসদ সচিবালয় থেকে নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হবে। এরপর ইসি আসনটি শূন্য ঘোষণা করলে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে সংসদকে জানানো হবে। পরবর্তী অধিবেশনে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সংসদকে এ বিষয়ে অবহিত করবেন।

সরকারদলীয় চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, জামায়াতের পক্ষ থেকে স্পিকারের কাছে গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এখন সংসদ সচিবালয়ের দায়িত্ব হলো বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠানো। ইসি তাদের সিদ্ধান্ত সংসদ সচিবালয়কে জানালে পরবর্তী সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

বহিষ্কার হলেই কি এমপি পদ বাতিল? গাজী নজরুলকে দল থেকে বহিষ্কারের পর তাঁর সংসদ সদস্য পদ নিয়ে আইনগত প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কারণ, অতীতে দল থেকে পদত্যাগ কিংবা দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার কারণে সংসদ সদস্য পদ বাতিল হওয়ার নজির থাকলেও শুধু দল থেকে বহিষ্কারের কারণে এমপি পদ বাতিলের স্পষ্ট নজির নেই।

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্য যে দলের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন, তিনি যদি ওই দল থেকে পদত্যাগ করেন অথবা সংসদে দলের বিরুদ্ধে ভোট দেন, তাহলে তাঁর সংসদ সদস্য পদ শূন্য হয়। অন্যদিকে সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদে নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে দুই বছর বা তার বেশি মেয়াদের কারাদণ্ড হলে সংসদ সদস্য হওয়ার অযোগ্যতার বিধান রয়েছে।

তবে গাজী নজরুলের ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত আদালতের কোনো দণ্ডের তথ্য নেই। তিনি দল থেকেও পদত্যাগ করেননি এবং সংসদে দলের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার ঘটনাও ঘটেনি। ফলে তাঁর ক্ষেত্রে সংবিধানের ৬৬ ও ৭০ অনুচ্ছেদ সরাসরি কীভাবে প্রযোজ্য হবে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ আইনগত প্রশ্ন।

যে কারণে দল থেকে বহিষ্কার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত মুহূর্তের একাধিক ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়। জামায়াতে ইসলামী বিষয়টি তদন্তের জন্য সাংগঠনিক উদ্যোগ নেয়।

দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাঁকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২২ জুলাই জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমে নেওয়া হয়। পরে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার স্পিকার ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি দিয়ে বিষয়টি অবহিত করেন।

এর আগে ভিডিওগুলো নিয়ে জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের কেউ কেউ এগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে তৈরি বলে দাবি করেছিলেন। তবে পরে গাজী নজরুল তাঁর ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে ভিডিওতে থাকা নারীকে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম বেগম হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি দাবি করেন, প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে গত ১৭ জুন পারিবারিকভাবে তাঁদের বিয়ে হয়েছে।

তৃতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য ৭৪ বছর বয়সি গাজী নজরুল ইসলাম সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে এবার তৃতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এর আগে ১৯৯১ সালে তিনি প্রথমবার এ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি জামায়াতে ইসলামীর সাতক্ষীরা জেলা আমির এবং দলটির কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

এখন নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য পদটি বহাল থাকবে, নাকি আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হবে। ইসির সিদ্ধান্তের পরই এ বিষয়ে পরবর্তী সাংবিধানিক ও সংসদীয় প্রক্রিয়া স্পষ্ট হবে।

জাতীয়-এর আরও খবর