ইতিহাসে প্রথম, ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলবে ১৩টি মুসলিমপ্রধান দেশ!

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক । দেশ পত্রিকা    09-06-2026    74
ইতিহাসে প্রথম, ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলবে ১৩টি মুসলিমপ্রধান দেশ!

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছে। প্রথমবারের মতো রেকর্ডসংখ্যক ১৩টি মুসলিমপ্রধান দেশ বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। ফলে আসন্ন আসরটি ইতিহাসের অন্যতম বৈচিত্র্যময় ও বৈশ্বিক প্রতিনিধিত্বপূর্ণ টুর্নামেন্ট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ইতিহাসে প্রথমবার ৪৮টি দল নিয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপ। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিতব্য এই মেগা আসরে দলসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে বিশ্ব ফুটবলে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে এশিয়া, আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের উদীয়মান শক্তিগুলোর জন্য বিশ্বমঞ্চে জায়গা করে নেওয়ার সুযোগ আরও বিস্তৃত হয়েছে।

এবারের বিশ্বকাপে এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল থেকে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা মুসলিমপ্রধান দেশগুলো হলো— মরক্কো, মিশর, আলজেরিয়া, সেনেগাল, তিউনিসিয়া, সৌদি আরব, কাতার, জর্ডান, ইরাক, ইরান, উজবেকিস্তান, তুরস্ক এবং বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা।

বিশ্লেষকদের মতে, এই অর্জন শুধু ক্রীড়াক্ষেত্রের সাফল্য নয়; বরং তৃণমূল উন্নয়ন, পেশাদার লিগ গঠন, আধুনিক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পিত বিনিয়োগের প্রতিফলন। গত এক দশকে এসব দেশের ফুটবল অবকাঠামো ও খেলোয়াড় উন্নয়ন কার্যক্রমে ব্যাপক অগ্রগতি দেখা গেছে।

বিশ্বকাপে মরক্কো ও সেনেগালের মতো দল ইতোমধ্যেই নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে। বিশেষ করে মরক্কো ২০২২ বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ে প্রথম আফ্রিকান দেশ হিসেবে সেমিফাইনালে পৌঁছেছিল। অন্যদিকে উজবেকিস্তান ও জর্ডানের মতো নতুন দলগুলোর উত্থান বিশ্ব ফুটবলের ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশেরই প্রতিফলন।

এবারের আসরে বেশ কয়েকটি দেশের জন্য অপেক্ষা করছে আবেগঘন ও ঐতিহাসিক মুহূর্ত। দীর্ঘ চার দশক পর বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ফিরছে ইরাক, যা মধ্যপ্রাচ্যের ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনার জন্ম দিয়েছে। একইভাবে ২৪ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে তুরস্কও আবার বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করেছে।

ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, ফিফার বিশ্বায়নমুখী নীতি এবং দলসংখ্যা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত এশিয়া ও আফ্রিকার দেশগুলোর জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। কঠিন বাছাইপর্ব পেরিয়ে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েই এসব দেশ বিশ্বকাপের মঞ্চে জায়গা করে নিয়েছে।

রেকর্ডসংখ্যক মুসলিমপ্রধান দেশের অংশগ্রহণ শুধু মাঠের লড়াইকেই সমৃদ্ধ করবে না, বরং বিশ্বমঞ্চে বহুসাংস্কৃতিক সহাবস্থান ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার একটি ইতিবাচক বার্তাও তুলে ধরবে। উত্তর আফ্রিকার কারিগরি ফুটবল, মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত শৃঙ্খলা এবং মধ্য এশিয়ার শক্তিনির্ভর খেলার ধারা—সব মিলিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপে ফুটবলের নানা দর্শনের এক অনন্য মিশ্রণ দেখা যাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

মাঠের বাইরেও এর গুরুত্ব কম নয়। ১৩টি মুসলিমপ্রধান দেশের অংশগ্রহণ এশিয়া, আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে কোটি কোটি দর্শকের আগ্রহ আরও বাড়িয়ে তুলবে। ফলে ফুটবল যে সত্যিই বিশ্বজনীন ঐক্য ও সংযোগের ভাষা, ২০২৬ বিশ্বকাপ তার আরেকটি উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে।

উত্তর আমেরিকার তিন দেশে আয়োজিত এই বিশ্বকাপ আগামী বছরের জুন মাসে শুরু হয়ে জুলাইয়ে ফাইনালের মাধ্যমে শেষ হবে। আর তার আগেই বিশ্ব ফুটবল অপেক্ষা করছে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে বৈচিত্র্যময় বিশ্বকাপের জন্য।

খেলাধুলা-এর আরও খবর