৮৮ বছরের অপেক্ষার অবসান, ইতিহাস গড়ল ব্রাজিল

  বিশেষ প্রতিনিধি    30-06-2026    126
৮৮ বছরের অপেক্ষার অবসান, ইতিহাস গড়ল ব্রাজিল

অবিশ্বাস্য, রোমাঞ্চকর এবং দীর্ঘ ৮৮ বছরের এক আক্ষেপ ঘুচানোর গল্প লিখল ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দল। বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশের নকআউট পর্বে জাপান জাতীয় ফুটবল দল-এর বিপক্ষে প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের মহাকাব্যিক জয় তুলে নিয়েছে কোচ কার্লো আনচেলত্তি-র দল।

১৯৩৮ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে বিরতির সময় পিছিয়ে থেকেও ম্যাচ জিতে মাঠ ছাড়ল ব্রাজিল। সেবার চেকোস্লোভাকিয়া জাতীয় ফুটবল দল-র বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে জিতেছিল তারা। দীর্ঘ আট দশক পর যেন সেই ইতিহাসেরই পুনরাবৃত্তি ঘটল। এই জয়ের মাধ্যমে টানা ১১ বার বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করল লাতিন আমেরিকার পরাশক্তিরা।

ম্যাচের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছিল মাঠে। তবে সব নাটকীয়তার অবসান ঘটে ৯৫তম মিনিটে। গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি-র চমৎকার এক গোলে জয় নিশ্চিত হয় ব্রাজিলের। এটি শুধু দলকে জেতায়নি, বরং বিশ্বকাপের ইতিহাসে নির্ধারিত সময়ের নকআউট পর্বে সবচেয়ে দেরিতে করা ম্যাচজয়ী গোলের নতুন রেকর্ড গড়েছে।

এর আগে ২০০২ ফিফা বিশ্বকাপ-এ ইংল্যান্ড জাতীয় ফুটবল দল-এর বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও ব্রাজিল জিতেছিল, তবে সেবার বিরতির আগেই সমতায় ফিরেছিল তারা। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে এই নিয়ে ষোড়শ বারের মতো পিছিয়ে পড়েও জয় পেল ব্রাজিল, যা জার্মানি জাতীয় ফুটবল দল-এর সঙ্গে যৌথ বিশ্বরেকর্ড।

এই ঐতিহাসিক ম্যাচে ব্রাজিলের অভিজ্ঞ এবং তরুণদের এক দারুণ সমন্বয় দেখা গেছে। ১৯৬৬ সালের পর থেকে হিসাব করলে, ২৯ বছর ২৪৫ দিন গড় বয়সের এই একাদশ ছিল বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ব্রাজিলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বয়স্ক দল।

অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার কাসেমিরো ৩৪ বছর ১২৬ দিন বয়সে গোল করে ব্রাজিলের ইতিহাসে বিশ্বকাপে দ্বিতীয় সবচেয়ে বয়স্ক গোলদাতার কীর্তি গড়েন। তবে তার আরেকটি পরিসংখ্যানও আলোচনায় এসেছে—২০১৮ সালে অভিষেকের পর বিশ্বকাপে এটি ছিল তার পঞ্চম কার্ড, যা এই সময়ে যেকোনো ফুটবলারের জন্য সর্বোচ্চ।

অভিজ্ঞদের পাশাপাশি আলো ছড়িয়েছেন তরুণরাও। মাত্র ১৯ বছর ৩৩০ দিন বয়সে মাঠে নেমে তরুণ ফুটবলার হায়ান ব্রাজিলের হয়ে নকআউট পর্বে খেলা তৃতীয় সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার হয়েছেন, যেখানে তার নাম উঠে এসেছে কিংবদন্তি পেলে-র পাশে।

মাঝমাঠে ব্রুনো গিমারায়েস ছিলেন দুর্দান্ত। চলতি আসরে এটি ছিল তার চতুর্থ অ্যাসিস্ট, যা ১৯৭০ বিশ্বকাপে পেলে-র করা ৬ অ্যাসিস্টের রেকর্ডের দিকে এগোনোর ইঙ্গিত দিচ্ছে।

পুরো ম্যাচ জুড়ে জাপানের রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রাখা ব্রাজিল প্রতিপক্ষের ডি-বক্সে ২১০টি সফল পাস দিয়েছে, যা বিশ্বকাপে দলটির আক্রমণভাগে সর্বোচ্চ সফল পাসের নতুন রেকর্ড। সব মিলিয়ে আক্রমণাত্মক ফুটবল আর একের পর এক রেকর্ড গড়ে নতুন ইতিহাস লিখে মাঠ ছেড়েছে ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দল।

খেলাধুলা-এর আরও খবর