ইতিহাস গড়ে বিশ্বকাপের নকআউটে আফ্রিকার ৯ দেশ

  বিশেষ প্রতিনিধি    28-06-2026    33
ইতিহাস গড়ে বিশ্বকাপের নকআউটে আফ্রিকার ৯ দেশ

নানা হিসাব-নিকাশ, নাটকীয় সমীকরণ এবং রোমাঞ্চকর সব ম্যাচ শেষে শেষ হয়েছে এবারের ফিফা বিশ্বকাপ-এর গ্রুপ পর্ব। ৪৮ দলের এই বিস্তৃত আসর থেকে ইতোমধ্যে বিদায় নিয়েছে ১৬টি দল। আর ১২টি গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ—মোট ২৪ দলের সঙ্গে সেরা আটটি তৃতীয় স্থান অধিকারী দল জায়গা করে নিয়েছে শেষ ৩২-এ। এখন শুরু হচ্ছে নকআউট পর্ব, যেখানে বাড়তি উত্তেজনা যোগ করবে অতিরিক্ত সময় ও টাইব্রেকারের সম্ভাবনা। কানাডা ও দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ দিয়ে শুরু হচ্ছে সেই প্রতীক্ষিত পর্ব।

এবারের বিশ্বকাপে আফ্রিকা থেকে ১০টি দেশ মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিল। তার মধ্যে অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়ে রেকর্ড গড়ে নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে ৯টি দল। দলগুলো হলো— মরক্কো, দক্ষিণ আফ্রিকা, সেনেগাল, আইভরি কোস্ট, ঘানা, কেপ ভার্দে, মিশর, কঙ্গো এবং আলজেরিয়া।

এর আগে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ ছয়টি আফ্রিকান দেশ নকআউট পর্বে উঠতে সক্ষম হয়েছিল। কয়েকটি দল একাধিকবার এই কৃতিত্ব দেখালেও এবারের মতো একসঙ্গে এত বেশি আফ্রিকান দেশের শেষ ষোলো বা নকআউট নিশ্চিত করা বিশ্বকাপ ইতিহাসে নতুন অধ্যায় তৈরি করেছে। উল্লেখযোগ্যভাবে ২০১৪ এবং ২০২২ বিশ্বকাপে মাত্র দুটি আফ্রিকান দল নকআউট পর্বে উঠেছিল।

আফ্রিকান ফুটবলের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণার নাম মরক্কো। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে প্রথম আফ্রিকান দেশ হিসেবে সেমিফাইনালে উঠে ইতিহাস গড়েছিল দলটি। এবারের আসরেও তারা দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে। বিশেষ করে ব্রাজিল-এর বিপক্ষে ১-১ গোলের ড্র করে নিজেদের সামর্থ্যের আরেকটি বড় বার্তা দিয়েছে।

প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের মূল আসরে খেলতে এসে সবাইকে চমকে দিয়েছে কেপ ভার্দে। একইভাবে কঙ্গো-এর শেষ ৩২-এ জায়গা করে নেওয়াও বড় বিস্ময় হিসেবে দেখা হচ্ছে। নকআউট পর্বে দলটি মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড-এর।

অন্যদিকে এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে নাটকীয় সমাপ্তিগুলোর একটি উপহার দিয়েছে আলজেরিয়া। অস্ট্রিয়া-র বিপক্ষে ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে গোল করে দলকে জয় এনে দেন রিয়াদ মাহরেজ। তার সেই নির্ণায়ক গোলে ৩-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে নকআউট পর্বে জায়গা করে নেয় আলজেরিয়া।

কঙ্গোর ঐতিহাসিক জয়ের পর ম্যাচসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার হাতে নিয়ে দলের দীর্ঘ যাত্রার কথা স্মরণ করেন উইসা। তিনি বলেন, “৫২ বছর পর এটি মাত্র দ্বিতীয়বার আমরা বিশ্বকাপে খেলছি। চার বছর আগে আমরা এই দলের সঙ্গে বাছাইপর্ব শুরু করেছিলাম। প্রথম ম্যাচে পর্তুগালের সঙ্গে ড্র করেছি, কলম্বিয়ার বিপক্ষে হেরেছি। আবার এই ম্যাচেও ১০ মিনিটের মধ্যে পিছিয়ে পড়েছিলাম। ফুটবলে কিছুই সহজ নয়। আমাদের শুধু মানসিক দৃঢ়তা ধরে রাখতে হবে এবং এমন মুহূর্তগুলো উপভোগ করতে হবে, কারণ এমন সুযোগ বারবার আসে না।”

উইসা আরও বলেন, এবারের বিশ্বকাপে আফ্রিকান দলগুলোর সাফল্য স্পষ্টভাবে প্রমাণ করছে যে, বিশ্ব ফুটবলে আফ্রিকার ভবিষ্যৎ অত্যন্ত উজ্জ্বল। নতুন প্রজন্মের তরুণ প্রতিভারা ইতোমধ্যেই সেই অগ্রযাত্রার নেতৃত্ব দিতে শুরু করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এবারের বিশ্বকাপ আফ্রিকান ফুটবলের জন্য একটি টার্নিং পয়েন্ট হয়ে থাকতে পারে। ধারাবাহিক উন্নতি, আত্মবিশ্বাস এবং প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতা বিশ্ব ফুটবলে আফ্রিকার অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করে তুলছে।

খেলাধুলা-এর আরও খবর