ফুটবলের উন্মাদনা দেখতে আর্জেন্টিনা থেকে ঢাকায় ড্যান লান্দে

  বিশেষ প্রতিনিধি । দেশ পত্রিকা     22-06-2026    72
ফুটবলের উন্মাদনা দেখতে আর্জেন্টিনা থেকে ঢাকায় ড্যান লান্দে

আর্জেন্টিনা থেকে বাংলাদেশের দূরত্ব প্রায় ১৭ হাজার কিলোমিটার। ভাষা ভিন্ন, সংস্কৃতি আলাদা, ইতিহাসের পথচলাও এক নয়। তবু ফুটবল নামের এক অদৃশ্য বন্ধন দুই দেশকে এমনভাবে কাছাকাছি এনেছে যে বাংলাদেশের শহর থেকে গ্রাম— সর্বত্রই দেখা যায় আকাশে উড়তে থাকা আর্জেন্টিনার পতাকা। সেই ভালোবাসার উৎসকে আরও কাছ থেকে জানতে এবং বিশ্বকাপ ঘিরে বাংলাদেশের ফুটবল উন্মাদনা সরাসরি অনুভব করতে এবার বাংলাদেশ সফরে এসেছেন আর্জেন্টিনার পরিচিত মুখ ড্যান লান্দে, যিনি ‘রুলো’ নামেও পরিচিত।

রোববার সকালে ড্যান লান্দে ও তাঁর সফরসঙ্গীরা ঢাকায় পৌঁছান। বাংলাদেশে এসেই সন্ধ্যায় তারা দেশের শীর্ষ সংবাদপত্র প্রথম আলোর কার্যালয় পরিদর্শনে যান। এ সময় তাঁদের সঙ্গে ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত মার্সেলো কার্লোস সেসা। সেখানে তারা কার্যালয় ঘুরে দেখেন এবং সাংবাদিক ও কর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। আগামী ২৯ জুন পর্যন্ত তাঁদের বাংলাদেশে অবস্থান করার কথা রয়েছে।

এই সফরের মূল উদ্দেশ্য শুধু বিশ্বকাপ উপভোগ করা নয়, বরং বাংলাদেশে ফুটবলকে ঘিরে মানুষের আবেগ, আর্জেন্টিনার প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা এবং দুই দেশের মানুষের মধ্যে গড়ে ওঠা অনন্য বন্ধনকে আরও কাছ থেকে জানা। ঢাকায় আর্জেন্টিনা দূতাবাস জানিয়েছে, চলমান বিশ্বকাপ উপলক্ষে বাংলাদেশ ও আর্জেন্টিনার মানুষের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্ব এবং সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতেই এই সফরের আয়োজন করা হয়েছে।

ড্যান লান্দের সঙ্গে বাংলাদেশে এসেছেন আর্জেন্টিনার আরও কয়েকজন সৃজনশীল পেশাজীবী। তারা হলেন— ম্যানুয়েল হাভিয়ের এসকেরা রামোন, মার্তিন দে এসকালাদা, মার্তিনা জয়ে গন্ডেল এবং সান্তিয়াগো কন্দে। বাংলাদেশের ফুটবল সমর্থকদের প্রতি আর্জেন্টিনার মানুষের কৃতজ্ঞতা প্রকাশের অংশ হিসেবেই তাঁদের এই সফর।

বাংলাদেশে এসে এখানকার ফুটবলপ্রেমীদের উচ্ছ্বাস দেখে বিস্মিত হয়েছেন ড্যান লান্দে। তিনি জানান, বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসা ও সমর্থনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতেই তাঁরা এখানে এসেছেন। তাঁর ভাষায়, “বাংলাদেশ এই ভালোবাসার স্বীকৃতি পাওয়ার যোগ্য।”

ঢাকায় পৌঁছানোর পর থেকেই বাংলাদেশের আতিথেয়তায় মুগ্ধ তিনি। বিমানবন্দর থেকে শহরের পথে আসার সময় ভবনের ছাদে ছাদে উড়তে থাকা আর্জেন্টিনার পতাকা দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন ড্যান লান্দে। তাঁর মতে, আর্জেন্টিনার প্রতি বাংলাদেশিদের যে আবেগ, তা অনেক আর্জেন্টিনাবাসীও পুরোপুরি কল্পনা করতে পারেন না।

বাংলাদেশ সফরে ড্যান লান্দে ও তাঁর দল পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী অলিগলি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল, আমিনবাজার এবং মুন্সিগঞ্জের বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করবেন। সেখানে তাঁরা স্থানীয় ফুটবল সমর্থকদের সঙ্গে সময় কাটাবেন, মতবিনিময় করবেন এবং দেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বাস্তবতা সম্পর্কে জানার চেষ্টা করবেন।

আগামী ২৪ জুন বিশ্ব ফুটবলের মহাতারকা লিওনেল মেসির জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচিতেও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁদের। এছাড়া ২২ ও ২৮ জুন বিশ্বকাপের ম্যাচের দিনগুলোতে বাংলাদেশের সমর্থকদের সঙ্গে বড় পর্দায় খেলা উপভোগ করবেন এবং ম্যাচ ঘিরে মানুষের উদ্‌যাপন কাছ থেকে দেখবেন।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালের বিশ্বকাপ চলাকালে বাংলাদেশে ব্যাপক পরিচিতি পান ড্যান লান্দে। সে সময় তিনি আর্জেন্টিনায় বাংলাদেশের ক্রিকেট দলের প্রতি সমর্থন জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি প্রচারণা চালান, যা দুই দেশের মানুষের মধ্যে বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক আগ্রহের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছিল।

ফুটবলকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা বাংলাদেশ-আর্জেন্টিনার সম্পর্ক এখন আর শুধুই সমর্থনের আবেগে সীমাবদ্ধ নেই। দুই দেশের মানুষের এই আন্তরিক যোগাযোগ ভবিষ্যতে সংস্কৃতি, পর্যটন, বাণিজ্য এবং ক্রীড়া কূটনীতির ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিতে পারে বলে মনে করছে ঢাকায় আর্জেন্টিনা দূতাবাস।

ফুটবল যে শুধু একটি খেলা নয়, বরং দেশ, সংস্কৃতি ও ভৌগোলিক দূরত্ব ভুলিয়ে মানুষকে একসূত্রে বেঁধে ফেলার এক অসাধারণ শক্তি— ড্যান লান্দের এই বাংলাদেশ সফর যেন সেই বার্তাই নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।

আন্তর্জাতিক-এর আরও খবর