‘রূপপুরের জ্বালানি পরিবহনে আকাশসীমা ব্যবহারে পাকিস্তানের অস্বীকৃতি কারিগরি বিষয়’

  বিশেষ প্রতিনিধি    29-09-2026    8
‘রূপপুরের জ্বালানি পরিবহনে আকাশসীমা ব্যবহারে পাকিস্তানের অস্বীকৃতি কারিগরি বিষয়’

বাংলাদেশের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য পারমাণবিক জ্বালানি পরিবহনে আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ার বিষয়টিকে কারিগরি ও প্রক্রিয়াগত সমস্যা হিসেবে বর্ণনা করেছে পাকিস্তান।

মঙ্গলবার ঢাকায় অবস্থিত পাকিস্তান হাইকমিশন এক ব্যাখ্যায় জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক নীতিমালার প্রতি পাকিস্তান দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নির্ধারিত নিয়ন্ত্রক নির্দেশিকা ও বেসামরিক বিমান চলাচল প্রোটোকল কঠোরভাবে অনুসরণ করে নির্দিষ্ট ও অনুমানযোগ্য সময়ের মধ্যে সব কূটনৈতিক ফ্লাইট এবং আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতির আবেদন প্রক্রিয়া করা হয়।

হাইকমিশনের ব্যাখ্যায় বলা হয়, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোর বিষয়ে জানানো যাচ্ছে যে, বিষয়টি ফ্লাইট রুট এবং আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি-সংক্রান্ত কারিগরি ও প্রক্রিয়াগত বিষয়ের সঙ্গে জড়িত। এ ধরনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিমান চলাচল ও অন্যান্য কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজন হতে পারে, যার ফলে ফ্লাইটের সময়সূচিতে কিছু পরিবর্তন আসতে পারে।

পাকিস্তান হাইকমিশন আরও উল্লেখ করেছে, বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই বিষয়টিকে সঠিক কারিগরি প্রেক্ষাপটে দেখা উচিত এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে ক্ষুণ্ন করতে পারে—এমন কোনো প্রতিবেদন বা বিবরণীকে অপ্রয়োজনীয় গুরুত্ব দেওয়া উচিত নয়।

এর আগে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ইউরেনিয়াম জ্বালানি পরিবহন ব্যাহত হওয়ার কথা জানায় বাংলাদেশ। জ্বালানিবাহী কার্গো বিমানটি ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে তা আসেনি।

বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ইউরেনিয়াম বহনকারী একটি কার্গো বিমান ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা ছিল। তবে বিমানটি পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় নির্ধারিত সময়ে ইউরেনিয়াম পৌঁছাতে পারেনি। কেন অনুমতি দেওয়া হয়নি, তার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি।

মন্ত্রী আরও জানান, ইউরেনিয়াম পরিবহনের জন্য নতুন একটি তারিখ নির্ধারণের প্রক্রিয়া চলছে। রাশিয়া ইঙ্গিত দিয়েছে, অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে জ্বালানিটি বাংলাদেশে পৌঁছাতে পারে।

বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব শেখ মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম এএনআইকে বলেন, ইউরেনিয়ামবাহী বিমান আসার কথা থাকায় বিমানবন্দরে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে কর্মকর্তারা অপেক্ষায় ছিলেন। পরে রোসাটমের লিয়াজোঁ কর্মকর্তা জানান, বিমানটির আকাশসীমা ব্যবহারে জটিলতা রয়েছে। ফলে নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী বিমানটি পাঠানো সম্ভব হয়নি। নতুন করে সময়সূচি নির্ধারণ করতে হতে পারে।

এ বিষয়ে সঠিক তথ্য জানতে এএনআইয়ের পক্ষ থেকে রোসাটমের এক প্রতিনিধির কাছে ই-মেইল পাঠানো হলেও প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের রূপপুর গ্রামে পদ্মা নদীর তীরে বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রোসাটমের কারিগরি সহায়তায় এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের তত্ত্বাবধানে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।

প্রকল্পের আওতায় তৃতীয় প্রজন্মের ভিভিইআর-১২০০ (VVER-1200) প্রযুক্তির দুটি পারমাণবিক চুল্লি নির্মাণ করা হচ্ছে। দুটি ইউনিট থেকে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের কথা রয়েছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের জন্য নিম্ন-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জ্বালানির প্রথম চালান ২০২৩ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশে পৌঁছায়। রোসাটমের নভোসিবির্স্ক কেমিক্যাল কনসেনট্রেটস প্ল্যান্টে উৎপাদিত ১৬৪টি ফ্রেশ ফুয়েল অ্যাসেম্বলি একটি রুশ ভারী কার্গো বিমানে করে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আনা হয়।

পরে তেজস্ক্রিয়তা প্রতিরোধী বিশেষ কনটেইনারে করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তায় একটি ‘গ্রিন করিডোর’-এর মাধ্যমে জ্বালানি পাবনার ঈশ্বরদীতে প্রকল্প এলাকায় নেওয়া হয়। সেখানে ২০২৩ সালের অক্টোবরে আনুষ্ঠানিকভাবে জ্বালানি হস্তান্তর করা হয়।

আন্তর্জাতিক-এর আরও খবর