যুদ্ধ বন্ধে ইরানের অবস্থান ট্রাম্পকে জানালেন পুতিন

  বিশেষ প্রতিনিধি । দেশ পত্রিকা     10-10-2026    7
যুদ্ধ বন্ধে ইরানের অবস্থান ট্রাম্পকে জানালেন পুতিন

ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সমন্বয় করে দেশটির যুদ্ধ বন্ধের অবস্থান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। শুক্রবার ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তবে যুদ্ধ বন্ধে ইরানের নির্দিষ্ট শর্তগুলো কী, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

রুশ সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সমন্বয় করে সংঘাতের সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে তেহরানের দৃষ্টিভঙ্গি ট্রাম্পকে জানিয়েছেন পুতিন।

পেসকভের ভাষ্য অনুযায়ী, পুতিন ইরানের পক্ষ থেকে সংঘাত নিরসনের সম্ভাব্য উপায় সম্পর্কে ট্রাম্পকে অবহিত করেছেন। তবে এ বিষয়ে ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া কিংবা আলোচনার পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি।

রুশ ডিজেল রপ্তানি নিয়ে ট্রাম্প-পুতিন সমঝোতার দাবি যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক যোগাযোগের পাশাপাশি রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানি নিয়েও সমঝোতার কথা জানিয়েছেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, পুতিনের সঙ্গে এমন একটি সমঝোতা হয়েছে, যার আওতায় আগামী কয়েক মাসে রাশিয়া ১০ লাখ টনের বেশি ডিজেল রপ্তানি করতে পারবে।

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানির সুযোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন ট্রাম্প। তাঁর ভাষ্য, বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম কমাতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে সমঝোতার শর্ত, বাস্তবায়নপ্রক্রিয়া এবং নিষেধাজ্ঞার ওপর এর প্রভাব সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সংঘাত আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। তেলের সরবরাহ ও পরিবহন নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানি বাড়ানোর উদ্যোগ বাজারে জ্বালানি সরবরাহে কী প্রভাব ফেলবে, তা নির্ভর করবে বাস্তবায়ন ও আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতির ওপর।

যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক যোগাযোগ পুতিনের মাধ্যমে ইরানের অবস্থান ট্রাম্পের কাছে পৌঁছানোর ঘটনা চলমান সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক যোগাযোগের একটি নতুন পদক্ষেপ হিসেবে সামনে এসেছে। তবে এ যোগাযোগের ফলে যুদ্ধবিরতি বা স্থায়ী সমঝোতার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

ইরানের শর্তের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এবং সম্ভাব্য আলোচনার পরবর্তী ধাপ সম্পর্কেও বিস্তারিত জানানো হয়নি। ফলে এ উদ্যোগের মাধ্যমে সংঘাত নিরসনে কতটা অগ্রগতি হবে, তা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে।

একদিকে যুদ্ধ বন্ধে ইরানের অবস্থান নিয়ে কূটনৈতিক যোগাযোগ, অন্যদিকে রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার দাবি—দুটি বিষয়ই চলমান সংঘাতের আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও জ্বালানি বাজারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা তুলে ধরেছে।

সূত্র: আল-জাজিরা

আন্তর্জাতিক-এর আরও খবর