রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত, আহত ২৪

আহতদের মধ্যে ১১ জন কর্মী ও ১৩ জন ওমরাহ যাত্রী, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন

  বিশেষ প্রতিনিধি    12-10-2026    19
রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত, আহত ২৪

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২৪ বাংলাদেশি। তাঁদের মধ্যে ১১ জন কর্মী ও ১৩ জন ওমরাহ যাত্রী। আহত ব্যক্তিরা রিয়াদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

রোববার (১১ অক্টোবর) রাতে রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাস এ তথ্য জানিয়েছে। দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টা ১৫ মিনিটে বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৩ এলাকায় একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের যাত্রী হতাহত হন। প্রাথমিক হিসাবে, এ ঘটনায় মোট ১২ জন নিহত ও ৩০৯ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুই বাংলাদেশি রয়েছেন।

আহত বাংলাদেশিদের চিকিৎসার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে দূতাবাস। আহতদের মধ্যে তিনজন কিং আবদুল্লাহ হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন। দূতাবাসের একটি প্রতিনিধিদল তাঁদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে। তাঁদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে। তাঁরা হলেন হাফেজ হাসান (ঢাকা), কাজী নুরুল্লাহ (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) ও সৌদি প্রবাসী কর্মী মো. ওমর ফারুক।

বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাংলাদেশিরা দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, ন্যাশনাল গার্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দুই বাংলাদেশি হলেন সাফকাত রহমান (নওগাঁ) ও মো. দাউদুল ইসলাম (কুমিল্লা)। তাঁদের মধ্যে সাফকাত রহমান অচেতন অবস্থায় রয়েছেন। রিয়াদ মেডিক্যাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মো. সাইমুল ইসলাম সৌরভ ও আবুল মনসুর মো. রিয়াজ উদ্দীন—দুজনেরই বাড়ি ঢাকায়।

এ ছাড়া প্রিন্স সুলতান মিলিটারি হাসপাতালে মো. আবদুল্লাহ (ঢাকা), সুলাইমান আলহাবিব হাসপাতালের তাখাসসুসি শাখায় আরমান হোসেনসহ তিন বাংলাদেশি কর্মী এবং কিংডম হাসপাতালে মো. রফিক মিয়া চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

কিং খালেদ মেডিক্যাল সিটিতে চিকিৎসাধীন ইসমাইল হোসাইন, মো. মিসবাহ উদ্দিন হীরক ও মো. রায়হানুল ইসলাম। প্রিন্স মোহাম্মদ বিন আবদুল আজিজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন পাঁচ বাংলাদেশি কর্মী হলেন সালমা আক্তার, মো. শাহাদাত হোসেন, মোশাহিদ আহমেদ সৈকত, জাহিদ আহমেদ ও সোহবে সাদেক মো. শাহজাহান সরকার।

এ ছাড়া এজতাহ সনদ হাসপাতালে মো. আসাদুল ইসলাম ও মো. জামাল, সুলাইমান ফকিহ হাসপাতালে নাজমা আক্তার এবং সুলাইমান আলহাবিব হাসপাতালের আলসাহাফা শাখায় উমায়ের ও আবদুল্লাহ কামিল চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

দূতাবাস জানিয়েছে, আহত বাংলাদেশিরা রিয়াদ থেকে জেদ্দায় যাওয়ার জন্য ট্রানজিটে বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছিলেন।

আটকে পড়া যাত্রীদের জন্য ব্যবস্থা হামলার ঘটনায় বাংলাদেশ থেকে আসা এবং রিয়াদ হয়ে বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে যাতায়াতের অপেক্ষায় থাকা প্রায় ৫০০ যাত্রী আটকা পড়েন। রিয়াদ থেকে বাংলাদেশে ফেরার অপেক্ষায় থাকা যাত্রীরাও এ পরিস্থিতির মধ্যে পড়েন। তাঁদের সহায়তায় বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়েছে বাংলাদেশ দূতাবাস।

দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, টার্মিনাল-৩-এ সৌদিয়া এয়ারলাইনসের এসভি৮০৪, রিয়াদ এয়ারের আরএক্স১৭ ও ইউএস-বাংলার ইউএস২৮১ ফ্লাইটের যাত্রীদের পাশাপাশি সৌদি আরবের বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা ১০০ জনের আবাসন ও খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাঁদের মেরিয়ট ও রেডিসন হোটেল এবং প্রিন্সেস নূরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডরমিটরিতে রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশ থেকে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে ইহরামের পোশাক পরে আসা ৬৭ জনকে বিশেষ বাসে রিয়াদ থেকে জেদ্দায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এ ছাড়া রিয়াদ-ঢাকাগামী সৌদিয়া এয়ারলাইনসের বাতিল হওয়া এসভি৮০৪ ফ্লাইটের প্রায় ৪০০ বাংলাদেশি যাত্রীকে দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দেশে পাঠানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রিয়াদ থেকে বাহরাইনগামী দুই বাংলাদেশি কর্মীকে আলখোবার স্থলবন্দর দিয়ে বাহরাইন যাওয়ার ক্ষেত্রেও সহায়তা করেছে দূতাবাস।

আন্তর্জাতিক-এর আরও খবর