রাজধানীতে গাড়ির মালিকদের জন্য নতুন দুঃসংবাদ, চালু হতে যাচ্ছে ‘যানজট শুল্ক’

  বিশেষ প্রতিনিধি    03-07-2026    88
রাজধানীতে গাড়ির মালিকদের জন্য নতুন দুঃসংবাদ, চালু হতে যাচ্ছে ‘যানজট শুল্ক’  <br><br>

রাজধানী ঢাকা-র দীর্ঘদিনের ভয়াবহ যানজট পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নতুন একটি উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সরকার। যানজট কমাতে ‘কনজেশন চার্জ’ বা ‘যানজট শুল্ক’ চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে ঢাকায় ব্যক্তিগত যানবাহন চালকদের অতিরিক্ত খরচ গুনতে হতে পারে।

সরকারের ২০২৫-২০৪৫ মেয়াদের সংশোধিত কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনা (ইউআরএসটিপি)-এর খসড়ায় প্রতি কিলোমিটারে ৬ দশমিক ২৭ টাকা হারে এই শুল্ক আরোপের সুপারিশ করা হয়েছে। তবে এটি রাজধানীর সব সড়কে একসঙ্গে কার্যকর হবে না।

প্রস্তাবনা অনুযায়ী, যেসব করিডোরে মেট্রোরেল, বিআরটি (বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট) এবং উন্নতমানের গণপরিবহন সেবা চালু রয়েছে, মূলত সেসব সড়কে চলাচলকারী প্রাইভেট কার, মোটরসাইকেল ও ট্রাকের ক্ষেত্রে এই শুল্ক প্রযোজ্য হবে। পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, সাধারণ মানুষের জন্য নির্ভরযোগ্য ও সহজলভ্য গণপরিবহন নিশ্চিত করার পরই এ ব্যবস্থা কার্যকর করা উচিত।

বিশ্বব্যাংক এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক গবেষণায় উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৭ সালে ঢাকার সড়কে যানবাহনের গড় গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ২১ কিলোমিটার, যা ২০২২ সালে কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটারে। অর্থাৎ মাত্র দেড় দশকে যানবাহনের গতি ঘণ্টায় প্রায় ১৬ কিলোমিটার কমে গেছে।

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, রাজধানীর ভয়াবহ যানজটের কারণে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। হিসাব অনুযায়ী, প্রতিদিন প্রায় ৩২ লাখ কর্মঘণ্টা হারিয়ে যাচ্ছে শুধু যানজটের কারণে। এছাড়া ঢাকার ৭৩টি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে নিয়মিত যানবাহন আটকে থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।

এই যানজটের প্রভাব শুধু সাধারণ মানুষের সময় নষ্টেই সীমাবদ্ধ নয়; দেশের অর্থনীতিতেও এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যানজটের কারণে প্রতিদিন প্রায় ৯৮ হাজার কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য বড় ধরনের উদ্বেগের বিষয়।

পরিবহন পরিকল্পনার খসড়ায় আরও বলা হয়েছে, এই যানজট শুল্ক আদায়ে আধুনিক ‘রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশন (আরএফআইডি)’ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। নির্ধারিত সড়কে বিশেষ আরএফআইডি রিডার বসিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যানবাহন শনাক্ত করে শুল্ক কেটে নেওয়া হবে।

এই পুরো কার্যক্রম পরিচালনা ও তদারকির দায়িত্বে থাকবে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এবং ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন করা গেলে রাজধানীর যানজট অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হতে পারে। তবে এর আগে উন্নত, সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য গণপরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা না গেলে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

জাতীয়-এর আরও খবর