জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ দেশে ফিরলেই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করবেন বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র স্পিকারের কাছে জমা দিতে হয়। স্পিকার বিদেশে থাকায় এখন পর্যন্ত পদত্যাগপত্রে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
চিকিৎসার জন্য গত ১৯ জুলাই মেয়ে শামামা শাহরীন হাফিজকে নিয়ে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে যান স্পিকার। তাঁর রোববার দুপুর সাড়ে ১২টায় থাই এয়ারওয়েজের টিজি-৩২১ ফ্লাইটে দেশে ফেরার কথা থাকলেও সফর সংক্ষিপ্ত করে আজই দেশে ফিরছেন। ফলে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ এখন সময়ের ব্যাপার বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বঙ্গভবন সূত্র জানিয়েছে, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। কিন্তু স্পিকার বিদেশে থাকায় সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে রাষ্ট্রপতিকে পদত্যাগের বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে এবং সে অনুযায়ী বঙ্গভবনে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব সরওয়ার আলম জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি রুটিন অনুযায়ী বঙ্গভবনে অফিস করেছেন এবং পূর্বনির্ধারিত কয়েকটি বৈঠকে অংশ নিয়েছেন। তবে গতকাল বিকাল পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষরের কোনো তথ্য তাঁর কাছে নেই।
এদিকে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে গুঞ্জনের মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, রাষ্ট্রপতি যদি স্বাস্থ্যগত কারণে পদত্যাগ করতে চান, তাহলে সংবিধান অনুযায়ী স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিতে পারবেন। এ বিষয়ে সরকারের কোনো করণীয় নেই।
গতকাল অর্থ মন্ত্রণালয়ে কক্সবাজারকে উন্নত পর্যটন নগর হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। বৈঠকে অর্থমন্ত্রী, ভূমিমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে ছড়িয়ে পড়া গুঞ্জনের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে গুঞ্জন তো গুঞ্জনই। সেটি যদি বাস্তবে ঘটে, তখন আমরা দেখব।”
লন্ডনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাষ্ট্রপতি এবং ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মধ্যে কথিত ফোনালাপের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তাঁর কাছে কোনো তথ্য নেই।
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে চাইলে তাঁকে জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে স্বাক্ষরযুক্ত পদত্যাগপত্র জমা দিতে হবে। এরপর সংবিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
একই বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে অবস্থানকালে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং শেখ হাসিনার মধ্যে কোনো ফোনালাপ হয়েছে—এমন তথ্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে নেই। এ ধরনের কিছু হয়ে থাকলে তা তদন্ত করে দেখা হবে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকেই রাষ্ট্রপতি পরিবর্তনের বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনায় রয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্ভাব্য নতুন রাষ্ট্রপতির নাম নিয়েও নানা আলোচনা চলছে।
২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল পাঁচ বছরের মেয়াদে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। সেই হিসেবে তাঁর বর্তমান মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, তিনি পদত্যাগ না করা পর্যন্ত অথবা সংবিধান অনুযায়ী অপসারণ বা অভিশংসনের মাধ্যমে পদ শূন্য না হওয়া পর্যন্ত নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সুযোগ নেই।
সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারেন। আর ৫৪ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে অথবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
এ ছাড়া সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ পদত্যাগ, মৃত্যু বা অপসারণের কারণে শূন্য হলে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। জাতীয় সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় ক্ষমতাসীন বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।
উল্লেখ্য, গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের অপসারণের দাবিতে ছাত্রনেতারা বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছিলেন। তবে ড. মুহাম্মদ ইউনূস-এর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার তাঁকে অপসারণে কোনো উদ্যোগ নেয়নি।
স্পিকার দেশে ফিরলেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ
সংবিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ দেশে ফিরলেই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করবেন বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র স্পিকারের কাছে জমা দিতে হয়। স্পিকার বিদেশে থাকায় এখন পর্যন্ত পদত্যাগপত্রে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
চিকিৎসার জন্য গত ১৯ জুলাই মেয়ে শামামা শাহরীন হাফিজকে নিয়ে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে যান স্পিকার। তাঁর রোববার দুপুর সাড়ে ১২টায় থাই এয়ারওয়েজের টিজি-৩২১ ফ্লাইটে দেশে ফেরার কথা থাকলেও সফর সংক্ষিপ্ত করে আজই দেশে ফিরছেন। ফলে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ এখন সময়ের ব্যাপার বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বঙ্গভবন সূত্র জানিয়েছে, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। কিন্তু স্পিকার বিদেশে থাকায় সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে রাষ্ট্রপতিকে পদত্যাগের বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে এবং সে অনুযায়ী বঙ্গভবনে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব সরওয়ার আলম জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি রুটিন অনুযায়ী বঙ্গভবনে অফিস করেছেন এবং পূর্বনির্ধারিত কয়েকটি বৈঠকে অংশ নিয়েছেন। তবে গতকাল বিকাল পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষরের কোনো তথ্য তাঁর কাছে নেই।
এদিকে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে গুঞ্জনের মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, রাষ্ট্রপতি যদি স্বাস্থ্যগত কারণে পদত্যাগ করতে চান, তাহলে সংবিধান অনুযায়ী স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিতে পারবেন। এ বিষয়ে সরকারের কোনো করণীয় নেই।
গতকাল অর্থ মন্ত্রণালয়ে কক্সবাজারকে উন্নত পর্যটন নগর হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। বৈঠকে অর্থমন্ত্রী, ভূমিমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে ছড়িয়ে পড়া গুঞ্জনের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে গুঞ্জন তো গুঞ্জনই। সেটি যদি বাস্তবে ঘটে, তখন আমরা দেখব।”
লন্ডনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাষ্ট্রপতি এবং ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মধ্যে কথিত ফোনালাপের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তাঁর কাছে কোনো তথ্য নেই।
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে চাইলে তাঁকে জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে স্বাক্ষরযুক্ত পদত্যাগপত্র জমা দিতে হবে। এরপর সংবিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
একই বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে অবস্থানকালে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং শেখ হাসিনার মধ্যে কোনো ফোনালাপ হয়েছে—এমন তথ্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে নেই। এ ধরনের কিছু হয়ে থাকলে তা তদন্ত করে দেখা হবে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকেই রাষ্ট্রপতি পরিবর্তনের বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনায় রয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্ভাব্য নতুন রাষ্ট্রপতির নাম নিয়েও নানা আলোচনা চলছে।
২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল পাঁচ বছরের মেয়াদে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। সেই হিসেবে তাঁর বর্তমান মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, তিনি পদত্যাগ না করা পর্যন্ত অথবা সংবিধান অনুযায়ী অপসারণ বা অভিশংসনের মাধ্যমে পদ শূন্য না হওয়া পর্যন্ত নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সুযোগ নেই।
সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারেন। আর ৫৪ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে অথবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
এ ছাড়া সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ পদত্যাগ, মৃত্যু বা অপসারণের কারণে শূন্য হলে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। জাতীয় সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় ক্ষমতাসীন বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।
উল্লেখ্য, গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের অপসারণের দাবিতে ছাত্রনেতারা বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছিলেন। তবে ড. মুহাম্মদ ইউনূস-এর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার তাঁকে অপসারণে কোনো উদ্যোগ নেয়নি।
সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ জাহিদ হোসেন
নির্বাহী সম্পাদক
আলহাজ্ব শেখ সিদ্দিকুর রহমান
বার্তা সম্পাদক
তাকছিমুন নাহার
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
ইঞ্জিনিয়ার কে এম মেহেদী হাসান
|
মোবাইল: ০১৭১১২৪৯৭৭০
হোয়াটস্অ্যাপ: ০১৭১১২৪৯৭৭০
প্রধান কার্যালয় মোহাম্মদপুর, ঢাকা।
Email: deshpatrika24@gmail.com |
প্রিন্টের তারিখ ও সময়: July 28, 2026, 3:21 am