২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্য: এফডিআই সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী

  বিশেষ প্রতিনিধি । দেশ পত্রিকা     24-07-2026    87
২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্য: এফডিআই সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপি সরকার ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের লক্ষ্যে কাজ করছে। তিনি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের আহ্বান জানান।

গতকাল দুপুরে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই/ফিকি) আয়োজিত এফডিআই সম্মেলন-২০২৬-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘বাংলাদেশে কর্মসংস্থান ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে বৈদেশিক বিনিয়োগ ত্বরান্বিতকরণ’ শীর্ষক এই সম্মেলন জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে শুরু হয়। পরে বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা তুলে ধরে একটি ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

সম্মেলনে দেশ-বিদেশের প্রায় ৬০০ জন বিশিষ্ট প্রতিনিধি অংশ নেন। উদ্বোধনী বক্তব্য দেন এফআইসিসিআই-এর সভাপতি এবং বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুপালী হক চৌধুরী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এ লক্ষ্যে বাজেটে বিশেষ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতগুলোর জন্য বিভিন্ন প্রণোদনা রাখা হয়েছে। এসব খাতের মধ্যে রয়েছে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ওষুধশিল্প, ইলেকট্রনিকস, ডিজিটাল সেবা, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, উন্নত বস্ত্রশিল্প, স্বাস্থ্যসেবা ও লজিস্টিকস।

তিনি বলেন, বাংলাদেশকে একটি বৈশ্বিক উৎপাদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। তৈরি পোশাকশিল্পে বৈচিত্র্য আনা হচ্ছে এবং প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

তারেক রহমান বলেন, দেশীয় উদ্যোক্তা কিংবা বিদেশি বিনিয়োগকারী—যেই বাংলাদেশে বিনিয়োগ করবেন, সরকার তাদের প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা এবং সময়োপযোগী নীতিগত সহযোগিতা নিশ্চিত করবে। এটি শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, সরকারের সুস্পষ্ট অঙ্গীকার।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সামনে কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও সম্ভাবনা আরও বেশি। দেশের রয়েছে দ্রুত সম্প্রসারণশীল অভ্যন্তরীণ বাজার, বিপুলসংখ্যক তরুণ ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী, কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান এবং একটি নির্বাচিত সরকারের স্থিতিশীলতা। এসব শক্তিকে কাজে লাগিয়ে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য একটি নিয়মভিত্তিক, বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে সংযুক্ত এবং বেসরকারি খাতনির্ভর অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলা। নির্বাচনী ইশতেহারেই এ অর্থনৈতিক রূপান্তরের সুস্পষ্ট রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে।

তিনি বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে বলেন, বাংলাদেশে শুধু বিনিয়োগের আহ্বানই জানানো হচ্ছে না, বরং দেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরের অংশীদার হওয়ারও আহ্বান জানানো হচ্ছে।

তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পাঁচ মাস পূর্ণ করেছে। তবে অর্থনৈতিক সংস্কার ও নীতিগত প্রস্তুতির কাজ নির্বাচনের আগেই শুরু হয়েছিল। এ সময় সরকার বিনিয়োগকারী, উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী সংগঠন, অর্থনীতিবিদ, উন্নয়ন সহযোগী ও নীতিনির্ধারকদের মতামত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছে।

তিনি জানান, বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ সুরক্ষা, আধুনিক নিয়ন্ত্রক কাঠামো, সহজ করব্যবস্থা, মুনাফা নির্বিঘ্নে নিজ দেশে পাঠানোর সুযোগ, শক্তিশালী পুঁজিবাজার ও উন্নত অবকাঠামোর দাবি জানিয়েছেন। সরকার এসব বিষয় বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার আইনি ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোর আধুনিকায়ন করছে, বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা জোরদার করছে এবং দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা গড়ে তুলছে। পাশাপাশি কর ও ভ্যাট ব্যবস্থাকে সহজ করা, মুনাফা প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া সহজীকরণ, পুঁজিবাজার উন্নয়ন, স্টার্টআপে সহায়তা, অপ্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ ও লালফিতার দৌরাত্ম্য কমানো এবং সরকারি সেবাকে ডিজিটাল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি বন্দর, লজিস্টিকস অবকাঠামো এবং সার্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও সরকার কাজ করছে।

তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ শুধু বিনিয়োগ আকর্ষণের ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদি ও আস্থাভিত্তিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি উপস্থিত দেশি-বিদেশি ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের এই সম্ভাবনাময় যাত্রার অংশ হওয়ার আহ্বান জানান।

বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তাদের বিনিয়োগের ফলে দেশে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়েছে, বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে এবং দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সম্ভব হয়েছে। এজন্য তিনি বিনিয়োগকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

নিজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনীতিতে আসার আগে তিনি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকে তিনি উপলব্ধি করেছেন, কোনো ব্যবসার সফলতা শুধু উদ্যোক্তার দক্ষতা বা রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির ওপর নির্ভর করে না; বরং সরকারের প্রবৃদ্ধিবান্ধব নীতি ও সহায়ক পরিবেশও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

জাতীয়-এর আরও খবর