সাগর ও নদীবেষ্টিত উপকূলীয় জেলা বরগুনা মৎস্য সম্পদে সমৃদ্ধ। দেশের সামুদ্রিক মৎস্য আহরণে এ জেলার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। পাথরঘাটার বিএফডিসি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রসহ বরগুনা সদর ও তালতলীর বিভিন্ন আড়তে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ সামুদ্রিক মাছ ওঠে। অথচ এই প্রাচুর্যের সুফল পাচ্ছেন না অনেক জেলে। নানা সীমাবদ্ধতায় সম্ভাবনাময় মৎস্য অর্থনীতি কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন করতে পারছে না।
সরেজমিনে দেখা গেছে, আড়তে প্রচুর মাছ উঠলেও পর্যাপ্ত হিমাগার ও বরফকলের অভাবে মাছ সংরক্ষণে সংকট তৈরি হচ্ছে। সময়মতো সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় জেলেদের অনেক সময় কম দামে মাছ বিক্রি করতে হচ্ছে। স্থানীয় জেলেদের অভিযোগ, মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাবের কারণেও তাঁরা মাছের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
বাজার ও সংরক্ষণ সংকটের পাশাপাশি মাছের উৎপাদন নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। জেলেদের ভাষ্য, জলবায়ু পরিবর্তন, সমুদ্রে নাব্যতা সংকট, অবৈধ ট্রলিং এবং নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার মাছের প্রজনন ও বিচরণক্ষেত্রের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। অন্যদিকে, মাছ ধরায় সরকারি নিষেধাজ্ঞার সময়ে পর্যাপ্ত সহায়তা না পাওয়ায় অনেক জেলে পরিবারকে জীবিকা নির্বাহে কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হচ্ছে।
গবেষণা কেন্দ্রের অভাবে বৈজ্ঞানিক নির্দেশনা থেকে বঞ্চিত জেলেরা
বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি বলেন, “বরগুনা থেকে দেশের মোট সামুদ্রিক মাছের একটি বড় অংশ সরবরাহ করা হয়। কিন্তু এখানে কোনো মৎস্য গবেষণা কেন্দ্র নেই। কোন মৌসুমে কোন মাছ আহরণ করা উচিত, কীভাবে মাছের উৎপাদন বাড়ানো যায়—এসব বিষয়ে জেলেরা প্রয়োজনীয় বৈজ্ঞানিক নির্দেশনা পান না।”
মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ভৌগোলিক অবস্থান ও মৎস্য সম্পদের বৈচিত্র্যের কারণে বরগুনা একটি পূর্ণাঙ্গ মৎস্য গবেষণা কেন্দ্র স্থাপনের জন্য উপযোগী। এখানে এমন একটি কেন্দ্র গড়ে তোলা হলে সামুদ্রিক মাছের প্রজনন, বিচরণক্ষেত্র ও মজুদ সম্পর্কে গবেষণার সুযোগ বাড়বে। পাশাপাশি জেলেরা আধুনিক মাছ আহরণ, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রযুক্তি বিষয়ে প্রশিক্ষণ পাবেন। এতে চিংড়ি, কাঁকড়া ও শুঁটকি শিল্পের বিকাশেরও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
এ বিষয়ে বরগুনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জিয়াউল আহসান জানান, জেলায় মৎস্য গবেষণা কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাবনা ইতিমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।
উপকূলের জেলেদের প্রত্যাশা, বরগুনায় দ্রুত একটি পূর্ণাঙ্গ মৎস্য গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। তাঁদের মতে, গবেষণা, আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত সংরক্ষণব্যবস্থা ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে সাগর-নদীর মৎস্য সম্পদ জেলেদের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সমুদ্রে মাছের প্রাচুর্য, জেলেদের ঘরে হাহাকার: বরগুনা গবেষণা কেন্দ্র
সংরক্ষণ, ন্যায্যমূল্য ও আধুনিক প্রশিক্ষণের অভাবে সংকটে মৎস্য অর্থনীতি
সাগর ও নদীবেষ্টিত উপকূলীয় জেলা বরগুনা মৎস্য সম্পদে সমৃদ্ধ। দেশের সামুদ্রিক মৎস্য আহরণে এ জেলার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। পাথরঘাটার বিএফডিসি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রসহ বরগুনা সদর ও তালতলীর বিভিন্ন আড়তে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ সামুদ্রিক মাছ ওঠে। অথচ এই প্রাচুর্যের সুফল পাচ্ছেন না অনেক জেলে। নানা সীমাবদ্ধতায় সম্ভাবনাময় মৎস্য অর্থনীতি কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন করতে পারছে না।
সরেজমিনে দেখা গেছে, আড়তে প্রচুর মাছ উঠলেও পর্যাপ্ত হিমাগার ও বরফকলের অভাবে মাছ সংরক্ষণে সংকট তৈরি হচ্ছে। সময়মতো সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় জেলেদের অনেক সময় কম দামে মাছ বিক্রি করতে হচ্ছে। স্থানীয় জেলেদের অভিযোগ, মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাবের কারণেও তাঁরা মাছের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
বাজার ও সংরক্ষণ সংকটের পাশাপাশি মাছের উৎপাদন নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। জেলেদের ভাষ্য, জলবায়ু পরিবর্তন, সমুদ্রে নাব্যতা সংকট, অবৈধ ট্রলিং এবং নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার মাছের প্রজনন ও বিচরণক্ষেত্রের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। অন্যদিকে, মাছ ধরায় সরকারি নিষেধাজ্ঞার সময়ে পর্যাপ্ত সহায়তা না পাওয়ায় অনেক জেলে পরিবারকে জীবিকা নির্বাহে কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হচ্ছে।
গবেষণা কেন্দ্রের অভাবে বৈজ্ঞানিক নির্দেশনা থেকে বঞ্চিত জেলেরা
বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি বলেন, “বরগুনা থেকে দেশের মোট সামুদ্রিক মাছের একটি বড় অংশ সরবরাহ করা হয়। কিন্তু এখানে কোনো মৎস্য গবেষণা কেন্দ্র নেই। কোন মৌসুমে কোন মাছ আহরণ করা উচিত, কীভাবে মাছের উৎপাদন বাড়ানো যায়—এসব বিষয়ে জেলেরা প্রয়োজনীয় বৈজ্ঞানিক নির্দেশনা পান না।”
মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ভৌগোলিক অবস্থান ও মৎস্য সম্পদের বৈচিত্র্যের কারণে বরগুনা একটি পূর্ণাঙ্গ মৎস্য গবেষণা কেন্দ্র স্থাপনের জন্য উপযোগী। এখানে এমন একটি কেন্দ্র গড়ে তোলা হলে সামুদ্রিক মাছের প্রজনন, বিচরণক্ষেত্র ও মজুদ সম্পর্কে গবেষণার সুযোগ বাড়বে। পাশাপাশি জেলেরা আধুনিক মাছ আহরণ, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রযুক্তি বিষয়ে প্রশিক্ষণ পাবেন। এতে চিংড়ি, কাঁকড়া ও শুঁটকি শিল্পের বিকাশেরও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
এ বিষয়ে বরগুনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জিয়াউল আহসান জানান, জেলায় মৎস্য গবেষণা কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাবনা ইতিমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।
উপকূলের জেলেদের প্রত্যাশা, বরগুনায় দ্রুত একটি পূর্ণাঙ্গ মৎস্য গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। তাঁদের মতে, গবেষণা, আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত সংরক্ষণব্যবস্থা ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে সাগর-নদীর মৎস্য সম্পদ জেলেদের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ জাহিদ হোসেন
নির্বাহী সম্পাদক
আলহাজ্ব শেখ সিদ্দিকুর রহমান
বার্তা সম্পাদক
তাকছিমুন নাহার
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
ইঞ্জিনিয়ার কে এম মেহেদী হাসান
|
মোবাইল: ০১৭১১২৪৯৭৭০
হোয়াটস্অ্যাপ: ০১৭১১২৪৯৭৭০
প্রধান কার্যালয় মোহাম্মদপুর, ঢাকা।
Email: deshpatrika24@gmail.com |
প্রিন্টের তারিখ ও সময়: October 13, 2026, 4:15 am