বরগুনা সদর উপজেলার কুমরাখালী গ্রামে শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয়রা। ২৮ বছরের ঐতিহ্যবাহী কুমরাখালী সার্বজনীন শ্রীশ্রী হরি মন্দিরে চলছে পূজার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। ধর্মীয় আয়োজনের পাশাপাশি সম্প্রীতি, মানবিকতা ও জ্ঞানচর্চার নানা উদ্যোগের কারণে মন্দিরটি স্থানীয় মানুষের কাছে পেয়েছে আলাদা পরিচিতি।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গ্রামের সনাতন ধর্মাবলম্বী ভক্তদের উদ্যোগে প্রায় তিন দশক আগে মন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে নিয়মিতভাবে এখানে পূজা-অর্চনা হয়ে আসছে।
ধর্মের গণ্ডি পেরিয়ে মানবিক উদ্যোগ
শুধু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ নয় মন্দিরটির কার্যক্রম। মন্দির প্রাঙ্গণে গড়ে তোলা হয়েছে ‘অরিত্রি স্মৃতি পাঠাগার’। ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের মেধাবী শিক্ষার্থী বরগুনার মেয়ে অরিত্রি অধিকারীর স্মৃতি সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এলাকাবাসীর মতে, ধর্মীয় উৎসবের পাশাপাশি জ্ঞানচর্চার সুযোগ তৈরির এই উদ্যোগ মন্দিরটিকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে।
শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে মণ্ডপ
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে মন্দিরে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। পাশাপাশি চলছে মণ্ডপসজ্জা ও আলোকসজ্জার কাজ। এবারের পূজায় বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকছে মহালয়ার জীবন্ত প্রতিচ্ছবি, দেশীয় কারুশিল্পে সজ্জিত প্রতিমা, আলোকসজ্জা, আতশবাজি ও মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্বালন।
মন্দির কমিটির সভাপতি দিলীপ অধিকারী বলেন, ‘এই মন্দির আমাদের সম্প্রীতির বন্ধন। ২৮ বছর ধরে আমরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সঙ্গে এখানে পূজা করে আসছি। আমাদের মূল লক্ষ্য শুধু উৎসব উদযাপন নয়, মানুষের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ ছড়িয়ে দেওয়া। অরিত্রি স্মৃতি পাঠাগার সেই লক্ষ্যেরই একটি অংশ।’
তিনি জানান, অরিত্রির স্মৃতির উদ্দেশ্যে মন্দির প্রাঙ্গণে ধর্মীয় ঐতিহ্যসমৃদ্ধ দুর্গা মন্দির, শিব মন্দির ও কালী মন্দির গড়ে তোলা হয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে রামকৃষ্ণ, বিবেকানন্দ, গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু ও লোকনাথ বাবার ভাস্কর্য এবং একটি ফুলের বাগান।
কমিটির সাধারণ সম্পাদক ক্ষিতীশ বেপারী বলেন, বরগুনা জেলায় এবার ১৫১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে কুমরাখালী গোবিন্দ মন্দিরও রয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা ও নিরাপত্তার আশ্বাস পাওয়া গেছে। শান্তিপূর্ণভাবে শারদীয় উৎসব উদযাপনের জন্য তারা প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।
পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি বলেন, ‘আমরা চাই সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষের অংশগ্রহণে শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন দুর্গোৎসব উদযাপন করতে। মায়ের আশীর্বাদে সমাজ থেকে অশুভ শক্তি দূর হোক—এটাই আমাদের প্রার্থনা।’
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পূজাকে ঘিরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি মণ্ডপে পুলিশ ও আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। উপকূলীয় এলাকাতেও নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের টহল জোরদার থাকবে। সব মিলিয়ে ধর্মীয় উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি শান্তি, সম্প্রীতি ও নিরাপত্তার পরিবেশে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে কুমরাখালী।
বরগুনার কুমরাখালীতে দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি, সম্প্রীতির বার্তা ছড়াচ্ছে অরিত্রি স্মৃতি পাঠাগার
বরগুনা সদর উপজেলার কুমরাখালী গ্রামে শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয়রা। ২৮ বছরের ঐতিহ্যবাহী কুমরাখালী সার্বজনীন শ্রীশ্রী হরি মন্দিরে চলছে পূজার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। ধর্মীয় আয়োজনের পাশাপাশি সম্প্রীতি, মানবিকতা ও জ্ঞানচর্চার নানা উদ্যোগের কারণে মন্দিরটি স্থানীয় মানুষের কাছে পেয়েছে আলাদা পরিচিতি।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গ্রামের সনাতন ধর্মাবলম্বী ভক্তদের উদ্যোগে প্রায় তিন দশক আগে মন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে নিয়মিতভাবে এখানে পূজা-অর্চনা হয়ে আসছে।
ধর্মের গণ্ডি পেরিয়ে মানবিক উদ্যোগ
শুধু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ নয় মন্দিরটির কার্যক্রম। মন্দির প্রাঙ্গণে গড়ে তোলা হয়েছে ‘অরিত্রি স্মৃতি পাঠাগার’। ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের মেধাবী শিক্ষার্থী বরগুনার মেয়ে অরিত্রি অধিকারীর স্মৃতি সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এলাকাবাসীর মতে, ধর্মীয় উৎসবের পাশাপাশি জ্ঞানচর্চার সুযোগ তৈরির এই উদ্যোগ মন্দিরটিকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে।
শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে মণ্ডপ
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে মন্দিরে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। পাশাপাশি চলছে মণ্ডপসজ্জা ও আলোকসজ্জার কাজ। এবারের পূজায় বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকছে মহালয়ার জীবন্ত প্রতিচ্ছবি, দেশীয় কারুশিল্পে সজ্জিত প্রতিমা, আলোকসজ্জা, আতশবাজি ও মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্বালন।
মন্দির কমিটির সভাপতি দিলীপ অধিকারী বলেন, ‘এই মন্দির আমাদের সম্প্রীতির বন্ধন। ২৮ বছর ধরে আমরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সঙ্গে এখানে পূজা করে আসছি। আমাদের মূল লক্ষ্য শুধু উৎসব উদযাপন নয়, মানুষের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ ছড়িয়ে দেওয়া। অরিত্রি স্মৃতি পাঠাগার সেই লক্ষ্যেরই একটি অংশ।’
তিনি জানান, অরিত্রির স্মৃতির উদ্দেশ্যে মন্দির প্রাঙ্গণে ধর্মীয় ঐতিহ্যসমৃদ্ধ দুর্গা মন্দির, শিব মন্দির ও কালী মন্দির গড়ে তোলা হয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে রামকৃষ্ণ, বিবেকানন্দ, গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু ও লোকনাথ বাবার ভাস্কর্য এবং একটি ফুলের বাগান।
কমিটির সাধারণ সম্পাদক ক্ষিতীশ বেপারী বলেন, বরগুনা জেলায় এবার ১৫১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে কুমরাখালী গোবিন্দ মন্দিরও রয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা ও নিরাপত্তার আশ্বাস পাওয়া গেছে। শান্তিপূর্ণভাবে শারদীয় উৎসব উদযাপনের জন্য তারা প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।
পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি বলেন, ‘আমরা চাই সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষের অংশগ্রহণে শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন দুর্গোৎসব উদযাপন করতে। মায়ের আশীর্বাদে সমাজ থেকে অশুভ শক্তি দূর হোক—এটাই আমাদের প্রার্থনা।’
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পূজাকে ঘিরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি মণ্ডপে পুলিশ ও আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। উপকূলীয় এলাকাতেও নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের টহল জোরদার থাকবে। সব মিলিয়ে ধর্মীয় উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি শান্তি, সম্প্রীতি ও নিরাপত্তার পরিবেশে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে কুমরাখালী।
সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ জাহিদ হোসেন
নির্বাহী সম্পাদক
আলহাজ্ব শেখ সিদ্দিকুর রহমান
বার্তা সম্পাদক
তাকছিমুন নাহার
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
ইঞ্জিনিয়ার কে এম মেহেদী হাসান
|
মোবাইল: ০১৭১১২৪৯৭৭০
হোয়াটস্অ্যাপ: ০১৭১১২৪৯৭৭০
প্রধান কার্যালয় মোহাম্মদপুর, ঢাকা।
Email: deshpatrika24@gmail.com |
প্রিন্টের তারিখ ও সময়: October 7, 2026, 4:24 am