বরগুনার তালতলীতে জাল ওয়ারিশ সনদে হোল্ডিং ও দাখিলা দেওয়ার অভিযোগ তহশিলদারের বিরুদ্ধে

  বরগুনা জেলা প্রতিনিধি । দেশ পত্রিকা     28-09-2026    35
বরগুনার তালতলীতে জাল ওয়ারিশ সনদে হোল্ডিং ও দাখিলা দেওয়ার অভিযোগ তহশিলদারের বিরুদ্ধে

বরগুনার তালতলীতে জাল ওয়ারিশ সনদের মাধ্যমে হোল্ডিং খুলে খাজনার দাখিলা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বড়বগী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপসহকারী কর্মকর্তা (তহশিলদার) আবুল বাশারের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, ওই জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে একটি চক্র অন্যের প্রায় ১৬ একর জমি আত্মসাৎ ও বিক্রির চেষ্টা করছে।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ছোটভাইজোড়া গ্রামের মৃত আবদুল মান্নানের ছেলে মো. নাজমুল হাসান মঞ্জু এবং তার সহযোগী আবজাল মল্লিক, মৃত কালু মল্লিকের ছেলে জাকির মল্লিক ও মৃত রহিম মল্লিকের ছেলে গংরা অসৎ উদ্দেশ্যে একটি ভুয়া ওয়ারিশ সনদ তৈরি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

ওই সনদে বড়বগী ইউনিয়নের জেএল নম্বর ৪৪, বড়বগী মৌজার এসএ ১৭৭ নম্বর খতিয়ানের বিভিন্ন দাগে মোট ১৬ দশমিক ১৯ একর জমি নিজেদের নামে দেখানো হয়। তবে ওই জমি নিয়ে স্থানীয় মো. ইসমাইল মল্লিক ও মো. সিদ্দিকুর রহমান গংদের সঙ্গে আদালতে দেওয়ানি মামলা নম্বর ১৩৯/২০২৩ চলমান রয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, ২৮ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখের ১২/২৪ নম্বর স্মারকে তালতলী উপজেলার ৫ নম্বর বড়বগী ইউনিয়ন পরিষদের নামে একটি ওয়ারিশ সনদ তৈরি করা হয়। ওই সনদের সিলে ‘৫ নম্বর বরগুনা ইউনিয়ন পরিষদ’ লেখা রয়েছে, যা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহশিলদার আবুল বাশার সনদের সত্যতা যাচাই না করেই অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে ৫৮৭২ নম্বর নতুন হোল্ডিং খুলে খাজনা আদায়ের দাখিলা দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে ওই দাখিলা দেখিয়ে জমি বিক্রির চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগকারীদের দাবি।

এ বিষয়ে ওয়ারিশ সনদে নাম থাকা থয়লা চিং মগ বলেন, ‘আমি কোনোদিন ইউনিয়ন পরিষদে ওয়ারিশ সনদের জন্য আবেদন করিনি। কারা কীভাবে আমার নামে এই জাল সনদ বানিয়ে অপকর্ম করছে, তা আমার জানা নেই।’

৫ নম্বর বড়বগী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আলমগীর মিঞা বলেন, ‘২৮ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখের ১২/২৪ নম্বর স্মারকে যে ওয়ারিশ সনদটি দেখানো হয়েছে, তা আমাদের পরিষদ থেকে দেওয়া হয়নি। ওই স্মারকে অন্য ব্যক্তির নামে ওয়ারিশ সনদ দেওয়া হয়েছিল। জালিয়াতি করে চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর নকল করা হয়েছে। ইউপি রেজিস্টারেও এই নামে কোনো রেকর্ড নেই।’

এদিকে জালিয়াতির মাধ্যমে দাখিলা দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে তহশিলদার আবুল বাশার বলেন, ‘মঞ্জুরা উংথয়চে মগ ও থয়লা চিং মগ নামে একটি ওয়ারিশ সনদ দিয়ে আবেদন করেছিল। তা দেখে হোল্ডিং ও দাখিলা কেটে দেওয়া হয়েছে। পরে তারা জমি বিক্রির অনুমতির আবেদন করলে সনদে জটিলতা রয়েছে জানতে পেরে অনুমতি স্থগিত করা হয়েছে। তবে দাখিলা প্রদান করলেই জমি কারও হয়ে যায় না।’

তিনি আরও জানান, ওই দাখিলা দিয়ে আমতলী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে চুক্তিপত্র দলিল রেজিস্ট্রি করতে গেলে ভুক্তভোগী ইসমাইল মল্লিক ও সিদ্দিক মল্লিক গং ৭ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে লিখিত আবেদন করেন। পরে রেজিস্ট্রি কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়।

ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, জালিয়াতির বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ার পরও ভূমি কর্মকর্তা কোনো আইনি ব্যবস্থা না নিয়ে পরোক্ষভাবে সহায়তা করে যাচ্ছেন। অবিলম্বে অবৈধ হোল্ডিং ও দাখিলা বাতিল করে অভিযুক্ত তহশিলদার ও মঞ্জু চক্রের বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

সারাদেশ-এর আরও খবর